জ্বালানি সংকট ঠেকাতে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বাংলাদেশ সরকার সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই খাতে দৈনিক প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় কোনো দেশ ভর্তুকি দিচ্ছে, আবার কোনো দেশ কর ছাড় বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এছাড়াও এসি ২৬ ডিগ্রির নিচে না রাখা, হালকা পোশাক পরাসহ ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তও নিচ্ছে অনেক দেশ।
আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় জ্বালানি সংকটের কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় সরকার পচনশীল পণ্য রপ্তানিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কেনিয়ার চাষি ও রপ্তানিকারকদের একটি বেসরকারি সংগঠন ফ্লাওয়ার কাউন্সিল জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে তিন সপ্তাহে ক্ষতির পরিমাণ ৪.২ মিলিয়ন বা ৪২ লাখ ডলারের বেশি।
কেনিয়ার কিছু চা চাষি ও রপ্তানিকারক জানিয়েছেন, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ফুল, অ্যাভোকাডো ও সবজির মতো দ্রুত পচনশীল পণ্যগুলো যেন বন্দর দিয়ে দ্রুত খালাস ও রপ্তানি হতে পারে, সেজন্য বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কেনিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দিয়ে জরুরি সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ভোক্তা ও পরিবেশকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ কমাতে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও তাদের কোনো সরকারি মালিকানাধীন রিফাইনারিই চালু নেই।
দেশটির সরকার পেট্রোলচালিত যানবাহনগুলোকে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজি এবং বিদ্যুৎচালিত বা ইভি যানবাহনে রূপান্তরের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে সাশ্রয়ী অর্থায়ন মডেল ও ক্রেডিট সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, পাশাপাশি দেশজুড়ে দ্রুত চার্জিং অবকাঠামো ও রিফুয়েলিং ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনাম সরকার তেলের বাজারে যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সাময়িকভাবে ২৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির ওপর থেকে পরিবেশ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ‘জাতীয় স্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ২৬ মার্চ সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্বের ক্ষতি হলেও দেশটিতে জ্বালানির দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভিয়েতনাম কাতার, কুয়েত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি সই করেছে। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয় করতে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সেখানে ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনের জন্য সাপ্তাহিক জ্বালানির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা বারকোড ও কিউআর কোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ আট লিটার জ্বালানি দুই ধাপে কিনতে পারবে। তিন–চাকার যানবাহন সর্বোচ্চ ২৫ লিটার। এছাড়া ব্যক্তিগত ও সরকারি গাড়ি ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী (২ হাজার সিসি থেকে ৩ হাজার সিসির উপরে) প্রতি সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪৫ লিটার পর্যন্ত কিনতে পারবে—দুই কিস্তিতে। তবে জরুরি ও জনসেবা প্রদানকারী গাড়িগুলোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে সপ্তাহে একদিন বাড়ি থেকে কাজ করার নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে মিয়ানমার সরকার।
মিয়ানমার যেখানে এখনো জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মোকাবিলার পরিকল্পনা করছে, থাইল্যান্ডের কিছু অংশে তা ইতোমধ্যেই বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডজুড়ে—বিশেষ করে ব্যাংককের বাইরে—পেট্রোল স্টেশনগুলোয় ডিজেল সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রথমেই যে জ্বালানিটি ফুরিয়েছে, সেটি ছিল ডিজেল।
এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডে ডিজেল সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনগুলোতে এসি ব্যবহারের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নির্ধারণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করাসহ নানা সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে থাইল্যান্ডের সরকার জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে জরুরি রিজার্ভ ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
মার্চের শুরু থেকে দেশটির ঘোষিত অন্যান্য নীতির মধ্যে রয়েছে বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা, সরকারি ভবনগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো—যার মধ্যে রয়েছে এয়ার কন্ডিশন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখা এবং সরকারি কর্মীদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের পরিবর্তে হালকা পোশাক (হাফহাতা) পরার অনুমতি। এছাড়াও সরকার সব সরকারি বিভাগের বিদেশ সফরও অবিলম্বে স্থগিত করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

আমি ও আমার স্ত্রী মালয়েশিয়ার আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রায়বিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমেরবিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে তার বিস্তৃত ওবিস্তারিত পড়ুন


