প্রতিশোধ-সংঘাতের রাজনীতি আর দেখতে চাই না: রাষ্ট্রপতি


সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি ছেড়ে দেশকে সহনশীলতার রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশবাসীর এখন গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতির দিকে যাওয়া উচিত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ, সংঘাত এই রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতির দিকে গোটা দেশের মানুষের যাওয়া উচিৎ বলে আমি বিশ্বাস করি।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। রাজনীতির যে বিভাজন সেটা বাদ দিয়ে সম্প্রীতির রাজনীতি যেন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের দিন। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এর মাধ্যমে এলাকায় উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ধরে রাখতে উপাচার্যের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বলেন, উপাচার্যও এই এলাকার মানুষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে ভালো কাজ করবেন—এমন বিশ্বাস রয়েছে তার।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় জনগণের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এ জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেয়া হয় গার্ড অব অনার।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেবে সরকার
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদেরবিস্তারিত পড়ুন

উপজেলা নির্বাচনে নিষিদ্ধ পোস্টার-মিছিল
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ICT কোচিংবিস্তারিত পড়ুন


