মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

দ্য হিন্দুকে ফখরুল

ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে হাসিনাকে ফেরত দেওয়া উচিত

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘বন্দী’ বা আটকে থাকা উচিত নয়। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়তে বাংলাদেশের পথে বাধা হবে না। এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্বও জোরদার করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জনদাবি রয়েছে। আমরা মনে করি, তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ভারতের। কিন্তু ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে না দেয়, তবু তা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক একটি মাত্র ইস্যুতে ‘বন্দী’ থাকা উচিত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে ভারত এসব অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভা এবং আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনিপ্রক্রিয়া চলছে এবং তা চলবে।

হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল। সে সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিল ইস্যু আছে। তবে তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। তবু তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও আমরা একটি ইস্যুতেই আটকে থাকতে পারি না।’

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেন। তিনি ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে আতিথ্য দেন। পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি সফর করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের জন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এটাই ছিল রাষ্ট্রনায়কসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী বছরের আগে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের সময় ফারাক্কার পানির বিষয়টি সামনে আসবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ও রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে (আলোচনা করতে হবে)। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা পাগলের মতো কথা বলে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মিল রেখে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে মত দেন। তিনি এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার জন্য ক্ষতিকর। ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা আনতে পারেনি। কারণ, ‘অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন’। তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস সেই নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের কারিগরি শিক্ষায় সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের উপসাগরীয় দেশে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নতুন সরকারকে সামলাতে হবে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়মূলক, তা দেখা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, সেগুলো আমরা রাখব।’

একই রকম সংবাদ সমূহ

শরিকদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, বিভেদ নেই: তারেক রহমান

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবেবিস্তারিত পড়ুন

দিল্লির প্রেস মিনিস্টার হলেন কলারোয়ার সন্তান সাংবাদিক সাইদুর রহমান

বাংলাদেশ হাইকমিশন, নয়াদিল্লি, ভারত মিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগবিস্তারিত পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছবিস্তারিত পড়ুন

  • মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের
  • গ্রেপ্তার মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সামরিক আদালতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ, সরবরাহ শুরু আগস্টে
  • বিদেশি সাংবাদিকের বইয়ে পাওয়া গেল মোজাফফরের অন্ধকার জীবনের গল্প
  • পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি
  • চূড়ান্ত পর্যায়ে নতুন বেতন কাঠামো গেজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
  • পরাজয়ে শুরু সিরিজ জয়ে শেষ জিম্বাবুয়ে সফর
  • জুলাই সনদ বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
  • নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: বিএনপি
  • হেফাজতের সমাবেশে হামলায় ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে : চিফ প্রসিকিউটর
  • বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচারে সরকারের খরচ প্রায় শূন্য, গত বিশ্বকাপে মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১৪০ কোটি টাকা
  • সরকারের আগাম পদক্ষেপের কারণে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী