মমতা পদত্যাগ না করলে যা ঘটবে পশ্চিমবঙ্গে


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় সত্ত্বেও মমতা যদি পদত্যাগ না করেন, তবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কি কি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কখন পদত্যাগ করছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’
মমতা আরও বলেন, ‘এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণা মূলত একটি রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা তিনি বরখাস্ত হবেন।
ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) ধারা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সুপারিশক্রমে পদে থাকেন। যদি নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তবে রাজ্যপাল পদক্ষেপ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল নৈতিক ও সাংবিধানিক কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ দেবেন। এরপরও যদি মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে রাজ্যপাল তার সুপরিশ প্রত্যাহার করে মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করতে পারেন।
১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক এস. আর. বোম্মাই বনাম ভারত সরকার মামলার রায় অনুযায়ী, একটি সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না তা বিধানসভার কক্ষেই নির্ধারিত হতে হবে।
এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। ভোটাভুটিতে হেরে গেলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তারপরও পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল তাকে সাথে সাথে অপসারণ করতে পারবেন।
ভারতের সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী, যদি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে অস্বীকার করে নতুন সরকার গঠনে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে একে রাজ্যে ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের সুপারিশে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজ্যে সরাসরি শাসন জারি করতে পারেন। যার ফলে বর্তমান সরকারের অস্তিত্ব আইনত বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
রাজ্যপাল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের (বর্তমান প্রেক্ষিতে বিজেপি বা অন্য কোনো বিরোধী জোট) নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তারা শপথ গ্রহণ করেন, তবে আগের সরকারের কার্যকাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বর্তমান মেয়াদ ৭ মে ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার কথা এবং নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তাঁর আর কোনো আইনি ক্ষমতা থাকবে না।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিন, অর্থাৎ ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শপথ নেবে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছা ও নির্দেশে নতুন শপথ গ্রহণের জন্য এই দিন ধার্য করা হয়েছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল,বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গেবিস্তারিত পড়ুন

মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত দিয়ে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের আইনিবিস্তারিত পড়ুন


