লোকসভার সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা, ওয়াকআউট করে ক্ষোভ প্রকাশ


ভারতের লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে প্রায় অচেনা একটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে তীব্র ক্ষোভ ও নাটকীয় ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক এই দলটিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোয় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা যে দলে যোগ দিয়েছেন, সেই এনসিপিআইকে বৈঠকে ডাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে মহুয়া মৈত্রের নেতৃত্বে তৃণমূল সদস্যরা হল ছাড়েন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিএম, ডিএমকে, আম আদমি পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও। তবে কিছুক্ষণ পরই তারা বৈঠকে ফিরে আসেন।
গত এপ্রিলের নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানো তৃণমূল এখন ভেতরে-বাইরে চাপে। দলের ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে তারা এখন এনসিপিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।
কিন্তু স্পিকার এখনও এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। লোকসভার ওয়েবসাইটেও এখনও তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদই দেখানো হচ্ছে।
এর মধ্যে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু গত শনিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে এনসিপিআই নেতা হিসেবে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। একই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনসিপিআই-এর চিফ হুইপ বলে উল্লেখ করা হয়।
তৃণমূল নেতারা এটাকে ‘গণতন্ত্রের উপহাস’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজ্যসভা সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এক্সে বলেন, প্রতারণা। বিশ্বাসঘাতকদের এখনও তৃণমূলের সাংসদ বলা হচ্ছে, অথচ মন্ত্রী তাদের নতুন দলের এমপি হিসেবে বৈঠকে ডাকছেন।
২০২৩ সালে গঠিত এনসিপিআই দলটি গত মাস পর্যন্ত একেবারেই অপরিচিত ছিল। তৃণমূলের বিদ্রোহীরা যোগ দেওয়ার পরই দলটির নাম সামনে আসে। সরকারি সূত্র বলছে, বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেরাই জানিয়েছেন যে তারা আর তৃণমূলের অংশ নন। তাই সব দল ও গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই স্পিকার এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে পারেন। যদি তা হয়, তাহলে সংসদীয় ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
একই লোকসভা সচিবালয়ের নথিতে মহারাষ্ট্রের শিবসেনার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের খবর উঠে এসেছে। উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী থেকে আসা ছয় সাংসদকে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তৃণমূলের মতোই শিবসেনাও ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং বিদ্রোহীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

মেট্রোতে হেডফোন ছাড়া ভিডিও দেখলেই জরিমানা
ভারতে মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় হেডফোন বা ইয়ারফোন ছাড়া মোবাইলের স্পিকারে গান শোনাবিস্তারিত পড়ুন

ভারতে শিশু ধর্ষণের প্রধান অভিযুক্ত এনকাউন্টারে নিহত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার বারুইপুর শহরতলিতে এগারো বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধবিস্তারিত পড়ুন

পর্যটন ভিসা চালুর পর ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন বার্তা
বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষারবিস্তারিত পড়ুন


