বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাতক্ষীরায় কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব

এবিএম কাইয়ুম রাজ, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

শ্যামনগরের ১৪টি গ্রামের ৩১ জন কৃষকের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় শ্যামনগর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপস্থাপন করেন বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বারসিকের উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার।

গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা ধান ও সবজি চাষে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে অনেক সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ও মারাত্মক বিষাক্ত পণ্যও রয়েছে। এসাটপ, ক্যারাটে, ডেল এক্সপার্ট, ফার্মকট, জোয়াস, কনজাপ্লাস, মিমটক্স, মর্টারসহ বেশ কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক সরাসরি ফসলে প্রয়োগ করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকরাই এসব স্প্রে করছেন এবং তারা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন।

ফলে অনেক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ও লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছেন। কারও কারও চিকিৎসা ব্যয় ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ব্যয় মেটাতে অনেককে সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে কিংবা ঋণ নিতে হয়েছে।

এছাড়া কীটনাশকের প্রভাবে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং জলজ প্রাণির মৃত্যু, শিশু ও বৃদ্ধদের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমনকি ক্ষেতের সবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক নজরুল ইসলাম, গহর কয়াল, গোপাল মন্ডল, কেনা মন্ডল ও কওছার তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, অধিক ফলনের আশায় বিক্রেতাদের পরামর্শেই এসব বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিক কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিলন, প্রতিমা রাণী চক্রবর্তী, স্থানীয় সাংবাদিক, যুব সংগঠক ও কৃষক প্রতিনিধিরা।

বারসিকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপকূলীয় জনপদ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ নির্দেশনা প্রদান, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার, স্প্রে কাজে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং জৈব কৃষি পদ্ধতির প্রসারে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা জোরদারের দাবি জানান।

গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি নয়, সমগ্র সমাজ ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে এখনই দায়িত্বশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

একই রকম সংবাদ সমূহ

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধির সাথে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সামাজিক সম্প্রীতি ওবিস্তারিত পড়ুন

অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় প্রলোভন দেখান এমপি গাজী নজরুল

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামী থেকেবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় তাপপ্রবাহকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আগাম প্রস্তুতি বিষয়ক মহড়া

উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার মানুষদের টিকে থাকতে হলে বৈশ্বিক উষ্ণতাবিস্তারিত পড়ুন

  • শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা
  • এলজি অ্যাম্বাসেডর ২০২৬ মনোনীত শ্যামনগরের হাবিবুল্লাহ আল মামুন
  • বন্ধ মৌসুমে সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় ৪ জেলে আটক
  • সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
  • দুই বছর পরও শেষ হয়নি সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানোর অধ্যায়, ধরা পড়লেন আরও দুই বন্দী
  • সাতক্ষীরায় চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল
  • শ্যামনগরে চোখের আড়ালে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশু
  • সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে স্বাবলম্বী করল আইএফএসডি ফাউন্ডেশন
  • ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা: বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান
  • গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন
  • সুন্দরবনে বাঘ ও বন রক্ষায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের সংহতি: বিশ্ব বাঘ দিবসে শ্যামনগরে র‍্যালি ও সহাবস্থান সংলাপ
  • বিশ্ব বাঘ দিবসে র‌্যালি এবং মানুষ-বাঘ সহাবস্থান সংলাপ