শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সেই ‘জাতা’

স্থানীয় নাম ‘জাতা’। ডাল মাড়াই করার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ উপকরণ। একসময় গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের অপরিহার্য সেই ‘জাতা’ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন। মূলত ডাল মাড়াইয়ের উপকরণ হলেও জাতা দিয়ে অন্যান্য ছোট খাদ্য সামগ্রিও মাড়াই করা হতো।

প্রবীণরা জানান, জাতাকল মূলত একটি পাথরের উপরের আরেকটি পাথরে ঘর্ষনে দুই পাথরের মাঝে রাখা ডাল মাড়াই পদ্ধতি। তারা জানান, গোলাকার দুটি পাথর খন্ড উপর-নিচ রাখা হয়। দুটির মাঝ বরাবর থাকার ছিদ্রে কাঠের কাঠি সংযুক্ত থাকে, যাতে চাকার মতো ঘুরতে পারে। উপরের পাথরখন্ডটির এককোণে ছোট্ট গর্ত রাখা হয়, যেখানে লাঠি দিয়ে উপরের জাতাটি চাকার মতো ঘুরাতে হয়। এছাড়াও উপরের পাথর খন্ডের মধ্যভাগের পাশের একস্থানে ২ইঞ্চির মতো কাটা থাকে, যেখান দিয়ে ডাল দেয়া হয়। ডাল দেয়ার পর লাঠি দিয়ে উপরের জাতাটা জোড়ে ঘুরাতে হয়। কিছুক্ষণ পর দুই পাথরের ফাঁক দিয়ে মাড়াই করা ডাল বের হয়।

আশি বছর বয়সী লিয়াকত আলী জানান, কয়েক যুগ আগেও ফসল কাটার পর গ্রামের উঠোন বা খোলা স্থানে পরিবার ও প্রতিবেশীরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে ডাল মাড়াই করতেন। এটি শুধু কৃষিকাজই নয়, ছিল এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন হারিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আগে গরু দিয়ে দলাই, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা পায়ে মাড়িয়ে ডাল থেকে শস্য আলাদা করা হতো। এ সময় গ্রামীণ গান, গজল, হাসি-আড্ডায় মুখর থাকতো পুরো পরিবেশ। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই শ্রমসাধ্য পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।

অহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এখন মাড়াই মেশিন ব্যবহার করলে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে। ফলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। তবে এর ফলে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সেই বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

প্রবীণদের মতে, ডাল মাড়াই ছিল শুধু কাজ নয়, ছিল আনন্দের অংশ। এখন মেশিনের শব্দে সেই আনন্দ হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়।

তারা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। গ্রামবাংলার শিকড়ে থাকা ডাল মাড়াইয়ের মতো ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে কৃষির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে যাবে। তাই সময় থাকতে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সচেতনতার মাধ্যমে এই হারিয়ে যাওয়া চর্চাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক, সম্পাদক ফারুকী

সাতক্ষীরার কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনেবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

কলারোয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়িবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ার চন্দনপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা মন্টু

মেহেদী হাসান শিমুল: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৭নম্বর চন্দনপুর ইউনিয়নের দুটি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনবিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ার কাজীরহাট কলেজের ভর্তি অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আবু নসর
  • কলারোয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জমি পরিদর্শন
  • নবগঠিত সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলকে স্বাগত জানিয়ে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদল এর সভাপতি প্রার্থী মোঃ আবির হোসেন এর নেতৃত্বে শুভেচ্ছা মিছিল
  • কলারোয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন।। সভাপতি-সালাম, সম্পাদক বাকী বিল্লাহ, সাংগঠনিক আলিম
  • কলারোয়ায় সুপেয় পানির পয়েন্ট উদ্বোধন ও ডিজিটাল পানির বিলিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত”
  • কলারোয়ায় যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের বাচ্চুর সংবাদ সম্মেলন
  • ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে কলারোয়ায় যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
  • শার্শা থেকে কলারোয়া সীমান্তে মাদক নেটওয়ার্কের বিস্তার, আলোচনায় আমজাদ
  • কলারোয়ায় জামায়াতের লিডারশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
  • কলারোয়ার কেঁড়াগাছি ফুটবল টুর্নামেন্টে মুকুন্দপুর চ্যাম্পিয়ন
  • কলারোয়ায় সোনালী আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন কৃষকের
  • কলারোয়ায় এবার সাদা তিলের তৈরি দুর্গা প্রতিমা