বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

৫ বছরেও চালু হয়নি সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস, দেড় হাজার শ্রমিকের হাহুতাশ

আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা : ৫বছরেও চালু করা যায়নি সাতক্ষীরার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল্স। ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। এছাড়া হতাশায় ভূগছেন চাকরি হারানো বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে মিলটি আবারো চালুর দাবি বাস্তবায়ন কমিটিসহ শ্রমিকদের। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, পিপিটি’র মাধ্যমে চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে মিলটি।

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল্স সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান এই মিলটি। ১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা শহর উপকণ্ঠের মাগুরা এলাকায় ৩০ একর জায়গায় স্থাপন করা হয় সুন্দরবন কেক্সটাইল মিলস। মিলটিতে একসময় দেড় শহ¯্রাধিক শ্রমিক কাজ করতেন। মুল ইউনিট ও নীল কমল ইউনিটের আওতায় ৩৯ হাজারেরও বেশী টাকু ঘুরতো প্রতিনিয়ত। মিলের দু’টি ইউনিটের সুতা উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১০ হাজার কেজি। তবে এর জৌলুস বেশীদিন থাকেনি। ক্রমাগত লোকসানের ফলে ২০০৭ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদায় জানানো হয় গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে। পরে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে মিলটি চালু হয়। তাও টেকেনি বেশিদিন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে মিলটি ভাড়ায় নেয় নারায়নগঞ্জের ট্রেড লিংক লিঃ। লোকসান হতে থাকায় একবছর কয়েকমাস চালানোর পর ২০১৯ সালে আবারো বন্ধ ঘোষণা করা হয় মিলটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য বর্তমানে ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োজিত আছেন।

৫ বছর মিলটি বন্ধ থাকায় বেকার জীবন-যাপন করছেন এলাকার চারশ’ শ্রমিক। জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটি অবিলম্বে চালু করতে সরকারি পৃষ্টপোষকতার দাবি শ্রমিকদের।

এবিষয়ে শ্রমিক রেজাউল হক রেজা জানান,‘‘ আমি এখানে চাকরি করতাম। রুটি-রুজী আমার সেভাবেই। এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থানই হলো আমাদের দাবি। মিলটা চালু হলে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ’’

মিলটি চালুর দাবিতে কমিটি গঠন হয়েছে সম্প্রতি। পরিকল্পিতভাবে চালু করতে পারলে লাভবান হতে পারবেন কর্তৃপক্ষ,অভিমত শ্রমিক নেতৃবৃন্দের।

এবিষয়ে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস চালু বাস্তবায়ন কমিটির দপ্তর সমন্বয়কারী শেখ শওকত আলী জানান, ‘‘এই মিলের লাভ দিয়ে আমিন টেক্সটাইল মিল ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল গঠিত হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে আজ মিলটি দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেসময় পাকিস্থানী তুলা আমদানি করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মিলটি। আমরা দাবি করি, সরকার যেকোনভাবে মিলটি চালু করুক। ’’

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস চালু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাগফুর রহমান জানান,‘‘সরকার লস দিয়ে চালাবেনা। পিপিপির মাধ্যমে বিটিএমসি ইতোমধ্যে তিনটি মিল চালু করেছে। ত্রিশবছরের লিজে সেগুলো তারা চালাচ্ছে। তারা লাভবান হতে পারলে এই মিল চালু হতে পারবেনা কেন।’’

কমিটির আহবায়ক শেখ হারুন-উর-রশিদ বলেন,‘‘ সম্প্রতি মিলটি চালুর বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু সংসদে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। মিলটি চালু না হলে একদিকে যেমন কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হবে,তেমনি আগে কর্মরত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে। ’’

চালুর বিষয়ে মিলটির বর্তমান ইনচার্জ শফিউল বাশার জানান, ‘‘ ১৯৮০ সালে ২৯.৪৭ একর জায়গার ওপর এটি গড়ে উঠে। ১৯৮৩ সালে এটি চালু হয়। দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিক একসময় কর্মরত ছিল। ১৯৯২ সালে মুল ইউনিটের বাইরে ‘‘নীলকমল’’ নামে আরও একটি ইউনিট প্রস্তুত হয়। সুতা উৎপাদন থেকে থেকে থানকাপড় পর্যন্ত তৈরি হতো। তবে ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০০৭ সালে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের কারণে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিদায় করা হয়। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়ে যায় মিলটি দেখাশুনার জন্য। পরে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে মিলটি পরিচালিত হতো। তবে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাড়া পদ্ধতিতে চালানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট ও মেশিনারীজ পুরনো হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে আবারো বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। আর চালানো সম্ভব হয়নি। আমি যতটুকু জানি, দূর অথবা অদূর ভবিষ্যতে পিপিপি’র (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) মাধ্যমে মিলটি চালানোর চিন্তা বিটিএমসি’র আছে।

তবে বাস্তবতার নিরিখে মিলটিকে চালানো সম্ভব নয় বিধায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করার চিন্তাও সরকারের মাথায় রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক হুমায়ুন করিব।

তিনি বলেন,‘‘ মিলটি বেশ আগে থেকে বন্ধ রয়েছে। বাস্তবতার নিরীখে ক্রমাগত লোকসান দিয়ে টেক্সটাইল মিলকে হয়ত আর চালু করা সম্ভব হবেনা। আমরা চিন্তা করছি একটা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট করা যায় কিনা। যাতে শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে পড়ালেখা করতে পারে। আমি ডিসি সম্মেলনে এই প্রস্তাব দিয়েছি। বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব দেওয়ার পরে তা তারা গ্রহণ করেছেন। তিন একর জায়গা লাগবে,ইনস্টিটিউট করতে। বাকী জায়গা অন্যভাবে ব্যবহারের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়, যাতে ভিন্নধরণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। ’’

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে পথচারী ও শ্রমজীবীদের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের সুপেয় পানি ও ছাতা বিতরণ

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন পথচারী, দিনমজুর ও প্রখর রোদে কর্মরতবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার

সাতক্ষীরা সীমান্তকে কেন্দ্র করে আবারও ‘পুশইন’ আশঙ্কা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্যবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)বিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ায় নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ সাতক্ষীরার নবাগত ডিসির
  • সাতক্ষীরায় ‘বর্ণালী আর্ট’-এর ৫০ বছর পূর্তি: সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা
  • সাতক্ষীরায় পেশাজীবি গাড়ি চালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ
  • কালিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত
  • শ্রিম্প হ্যাচারী এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সেব এর জরুরী সাধারণ সভা
  • জমি সংক্রান্ত বিরোধে গৃহবধূকে পিটিয়ে যখম, থানায় মামলা
  • সাতক্ষীরায় দৈনিক কাফেলা সম্পাদক আব্দুল মোতালেবের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত
  • ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
  • সাতক্ষীরা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গিয়ে সাবেক পিপি’র মৃত্যু
  • বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে আমেরিকা যাচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় ইঞ্জি. সিরাজ
  • সাতক্ষীরায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা
  • সাতক্ষীরায় টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা