মাথায় বোঝা, কাঁধে সংসার: মনিরামপুরের ৯৬ অঞ্চলের পল্লীবধূদের নিরলস জীবনসংগ্রাম


ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তাদের দিনের কর্মযজ্ঞ। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও থামে না ব্যস্ততা। মাথায় ঘাসের বোঝা, কাঁধে সংসারের দায়িত্ব আর হৃদয়ে পরিবারের স্বপ্ন। এভাবেই প্রতিদিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ৯৬ অঞ্চলের পল্লী বধূরা।
সম্প্রতি উপজেলার ৯৬ অঞ্চলের একটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জলাভূমির মাঝখান দিয়ে সরু বাঁধের ওপর মাথায় গবাদিপশুর খাদ্যের বোঝা নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছেন এক গৃহবধূ। চারপাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ কচুরিপানা আর প্রকৃতির নীরবতার মাঝেও তার পদচারণা যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা সংগ্রামী নারীর প্রতীক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার অধিকাংশ পরিবারের জীবিকা কৃষি ও গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংসারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও প্রতিদিন মাঠে-ঘাটে কাজ করেন। কেউ ঘাস কাটেন, কেউ গরুর খাবার সংগ্রহ করেন, আবার কেউ কৃষিকাজে সরাসরি অংশ নেন।
ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরবাড়ি পরিষ্কার, রান্নাবান্না, সন্তানদের দেখাশোনা এবং গবাদিপশুর পরিচর্যা শেষে তারা মাঠে যান খাদ্য সংগ্রহ করতে। দিনের একটি বড় অংশ কেটে যায় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আবার শুরু হয় রান্না ও অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলেন, একসময় এসব দৃশ্য ছিল গ্রামবাংলার প্রতিদিনের চিত্র। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে গেলেও মনিরামপুরের অনেক গ্রামে এখনো সেই ঐতিহ্য টিকে আছে। সংসারের হাল ধরতে নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সমাজসচেতন ব্যক্তিদের মতে, পল্লী বধূদের এই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন খুব কমই হয়। অথচ তাদের নিরলস পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই অসংখ্য পরিবারের চাকা সচল থাকে। কৃষি উৎপাদন, গবাদিপশু পালন এবং পারিবারিক অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামবাংলার সৌন্দর্য শুধু সবুজ প্রকৃতি বা নদী-খালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এসব পরিশ্রমী নারীর ঘামে, ত্যাগে ও ভালোবাসায়। মাথায় বোঝা বহন করে সরু বাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া এই পল্লী বধূ যেন আজও বলে যায়-সংসারের সুখের জন্য কষ্টই তার নিত্যসঙ্গী।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

বৃষ্টিতে কাদার সাগরে মনিরামপুর-ঝিকরগাছা সড়ক, দুর্ঘটনার শঙ্কা
যশোরের মনিরামপুর-ঝিকরগাছা সড়কের বিভিন্ন অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ কাদা ওবিস্তারিত পড়ুন

রেলপথের দুই পাশে ১৬০ কেজি দেশি খেজুরের আটি ছড়িয়ে সবুজায়নের উদ্যোগ
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং দেশীয় গাছের বিস্তারে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়াবিস্তারিত পড়ুন

শিক্ষা অফিসের পরিচয়ে ফোন, পিন-ওটিপি চেয়ে প্রতারণার চেষ্টা : আতঙ্কে অভিভাবকরা
হেলাল উদ্দিন : মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের পর আবারও সক্রিয়বিস্তারিত পড়ুন


