সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

আম্পানের ৫০ দিন পরও পানিবন্দি আশাশুনির ৫০ হাজার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো। আম্পানের ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তিন ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়নি। ফলে এখনও এখানকার মানুষের বাড়ির উঠানে চলছে জোয়ার-ভাটা। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী। বাঁধ ভেঙে পানির আধারগুলো নষ্ট হওয়ায় সুপেয় পানির জন্য চলছে হাহাকার।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন, শ্রীউলা ইউনিয়ন এবং সদরের দয়ারঘাট এলাকার ১২৯০ মিটার ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ৫০হাজারের বেশি মানুষ এখনও পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এদিকে নদীর পানি প্রবেশ না করলেও স্যানিটেশন সমস্যা ভুগছেন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলার অধিকাংশ বেড়িবাঁধ আম্পানে ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতাপনগরের কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালী, চাকলা, শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালি এবং আশাশুনির সদরের দয়ারঘাট এলাকায় প্রবল জোয়ারে ৩০-৪০ ফুট গভীর খাল সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নদীর লোনা পানি প্রবেশের ফলে বাথরুম, গোসল ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়ে চলছে চর্মরোগ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সেনাবাহিনী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। তারপরও মানুষের হাহাকার কমছে না। সবচেয়ে সমস্যায় আছে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধরা। নারীদের বাথরুম করার জন্য সন্ধ্যা বা অন্ধকারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

শ্রীউলা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আম্পানের ৫০ দিন পরও আমাদের দিকে কারও নজর নেই। আমার বাড়ির উঠানে জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। খাওয়ার কষ্ট, পানির কষ্ট। শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুরাও কষ্টে আছে। প্রতাপনগরের কুড়িকাহুনিয় এলাকার বাসিন্দা ছলেমা বিবি বলেন, চারিদিকে পানি। কিন্তু কোথাও খাওয়ার পানি নেই। গোসল করতে পারছি না, বাথরুম করতে পারছি না। বিভিন্ন সংস্থা থেকে যে খাওয়ার পানি দিচ্ছে তা খেয়েই শেষ। দেখা দিচ্ছে নানান পানি বাহিত রোগ।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, আম্পানে ইউনিয়নের ৪ টি পয়েন্টের ১০ জায়গা ভেঙে ৪০কিলোমিটার বাঁধ নষ্ট হয়ে গেছে। খোলপেটুয়া নদীর চাকলা, দিঘলারআইট, সুভদ্রাকাটি, রুইয়ারবিল, কুড়িকাহুনিয়া, হিজলিয়া কোলাসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। রিং বাঁধ দেওয়ায় অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নদীর প্রবল জোয়ারে চাকলা, কুড়িকাহুনিয়া এবং হরিষখালী পয়েন্টে ৩০-৪০ ফুট গভীর খাল সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব পয়েন্টে বড় বড় ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। তার কাজ করছে। তবে খুব ধীরগতি। এখনও ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। দ্রুত স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এই স্থান বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে।
আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার গাছপালা, গবাদি পশু। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ। আমার ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ আজও পানিবন্দি। কাজ নেই, খাবার নেই। কেউ মারা গেলে কবর দেওয়ার পর্যন্ত জায়গা নেই। এসব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকটে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে বহু মানুষ।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন। প্রতাপনগরের চাকলা, শুভদ্রাকাটি, কুড়িকাহুনিয়া, কোলা, হরিষখালি, হিজলাসহ ৬টি পয়েন্ট ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রিং বাঁধ দেওয়া হলেও কিছু এলাকায় পানির প্রবল চাপে বাঁধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাঁধ নির্মাণে কাজ করছে। উপজেলার ২০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা উপকূলের অনেক এলাকায় রিং বাঁধ দেওয়া গেলেও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালী, চাকলা, শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালি এবং আশাশুনির সদরের দয়ারঘাট এলাকায় প্রবল জোয়ারে ৩০-৪০ ফুট গভীর খাল সৃষ্টি হওয়ায় ১২৯০ মিটার বাঁধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া ৬০০ মিটার, হরিষখালী ৩৬০ মিটার, হাজরাখালিতে ২৩০, দয়ারঘাটে ৬০ মিটার এবং চাকলা ৪০ মিটার। সেনাবাহিনীসহ আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন

সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধনবিস্তারিত পড়ুন

দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশই রোগীর পকেট থেকে আসে: সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের বড় অংশই রোগীদের নিজস্ব অর্থে বহন করতে হয় বলেবিস্তারিত পড়ুন

আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আগামী আগস্টের শেষবিস্তারিত পড়ুন

  • বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলো ভারত
  • দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী
  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার আশপাশ দিয়ে মাদকের বড় চালান আসে: সংসদে গয়েশ্বর
  • এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর
  • জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আটক
  • পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা
  • বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে ট্যাক্স প্রস্তাব বিএনপি সংসদ সদস্যের
  • ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি
  • ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু
  • জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
  • কলারোয়ায় নবনির্মিত সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
  • কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (ToT) কর্মশালা অনুষ্ঠিত