অল্পের জন্য বড় অঘটন থেকে যেভাবে রক্ষা পেল আর্জেন্টিনা


লিওনেল মেসি আবারও গোল করলেন, কিন্তু সেটিই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে দুইবার সমতায় ফিরে এসে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এর মাধ্যমে বড় অঘটন থেকেও রক্ষা পায় আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে শুক্রবার মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শকের সামনে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে এসে চমকে দিয়েছিল অধিকাংশ সমর্থককে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ছয় মিনিট পর লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেড করেন। বলটি কেপ ভার্দের সেন্টার-ব্যাক ডিনে বোর্জেসের হাতে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই আত্মঘাতী গোলেই শেষ পর্যন্ত আগামী মঙ্গলবার আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। তবে ঘণ্টার কাঁটা এক ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই সমতা ফেরান দিরয় দুয়ার্তে।
নির্ধারিত সময়ে সমতা ধরে রেখে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেস দারুণ এক শটে আবারও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন।
যদিও সেখানেও হার মানেনি কেপ ভার্দে। ম্যাচের ১০৩তম মিনিটে বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার সিডনি লোপেস কাবরাল অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে আবারও স্কোরলাইন ২-২ করেন।
রোমেরোর হেড থেকে হওয়া আত্মঘাতী গোলের পরও সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে লোপেস কাবরালের নেওয়া দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
হেরে গেলেও তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোনো অংশেই ম্লান ছিল না কেপ ভার্দে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই দলগত সমন্বয়, লড়াকু মানসিকতা ও দৃঢ়তার আরেকটি দুর্দান্ত প্রদর্শনী উপহার দেয় আফ্রিকার দলটি।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া চার দলের মধ্যে একমাত্র দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়া এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে আশা করেছিল, গ্রুপ পর্বে যেমন স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে রুখে দিয়েছিল, তেমনি আর্জেন্টিনাকেও ভোগাবে।
তারা সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করে। হার না মানা মানসিকতা, দারুণ পাসিং ফুটবল এবং সংগঠিত দলীয় খেলায় ম্যাচের বড় একটি সময় আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে তারা।
মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার আক্রমণে তেমন সৃজনশীলতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে কেপ ভার্দের লিবেরো কেভিন পিনা দীর্ঘ সময় মাঠের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন।
তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে আর্জেন্টিনার কাছ থেকেই। ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের লম্বা পাস ডিফেন্সের পেছনে পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে প্রথম স্পর্শ নেওয়ার পর শক্তিশালী শটে গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে মেসির ২০তম গোল।
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে গোলের বিকল্প ছিল না কেপ ভার্দের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিরয় দুয়ার্তের জোরালো শট দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
ঘণ্টার কাঁটা এক ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঠিক আগে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে বক্সে বল বাড়িয়ে দেন। ডাচ বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার দিরয় দুয়ার্তে বাঁ পায়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে ডান পায়ের শটে জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।
চার মিনিট পর আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এককভাবে গোলের সামনে পৌঁছালেও গোলরক্ষক ভোজিনিয়া দারুণ দক্ষতায় তার শট প্রতিহত করেন।
৭২তম মিনিটে মেসির চিরচেনা ফ্রি-কিকও অসাধারণ সেভে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন ভোজিনিয়া। এরপর ৮২তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের নিশ্চিত গোলও ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার পিকো লোপেস।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে সমতা ধরে রেখে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় কেপ ভার্দে। যদিও শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের, তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে বীরের মর্যাদায় দেশে ফিরবে তারা।
সূত্র : আল-জাজিরা
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সেমিফাইনালে কে কার মুখোমুখি, খেলা কখন
অবশেষে শেষ হলো কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। তবে অঘটন দেখেনি ২০২৬ বিশ্বকাপ! ফিফাবিস্তারিত পড়ুন

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাসবিস্তারিত পড়ুন

ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড শীর্ষে
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছে ইংল্যান্ড।বিস্তারিত পড়ুন


