যশোরে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইডস


আবেদ হোসাইন, যশোর: সীমান্তবর্তী জেলা যশোরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি ও এইডস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জনই শিক্ষার্থী, যাদের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। গত বছর শনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন ১২ জন।
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য বিভাগের এক সমন্বয় বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছরে ৩ হাজার ৯১৭ জনের মধ্যে ৩৭ জন নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অথচ গত বছর পুরো বছরে শনাক্ত হয়েছিল ২৫ জন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, এর মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জনই শিক্ষার্থী, যাদের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। গত বছর শনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন ১২ জন। অর্থাৎ চলতি বছর মাত্র ১০ মাসেই সেই সংখ্যা দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।
যশোরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ ৪৬ হাজার। সেই হিসাবে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে অন্তত একজন এইডস রোগী রয়েছেন।
বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারে ২২০ জন এইচআইভি ও এইডস আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শুধু যশোর নয়, খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকেও অনেকে রয়েছেন।
হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের শনাক্তদের মধ্যে ২৩ জন সমকামী সম্পর্কের কারণে সংক্রমিত হয়েছেন। গত বছর যশোরে মোট ২৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় প্রতিদিন ভারত থেকে মানুষের আসা–যাওয়া যশোরে স্বাভাবিক ঘটনা। এর সঙ্গে শহরের ভেতরে অবস্থিত দুটি পতিতালয়ে তরুণদের অবাধ যাতায়াত সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, অবৈধ সম্পর্ক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণহীনতা—এই তিন কারণ মিলেই তরুণদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন,
“তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার বর্তমানে ভয়াবহভাবে বাড়ছে। কৌতূহল এখন অনেকের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের চেয়ে সমলিঙ্গের প্রতিও বেড়েছে, যা এক ধরনের সামাজিক চক্রান্তের ফল। ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও পর্নোগ্রাফিতে আসক্তির কারণেই এই প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি ইন্টারনেট কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, যৌনশিক্ষা, পরিবারে মূল্যবোধ জাগরণ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তারা বলেন, এখনই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সংক্রমণ মহামারির আকার নিতে পারে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

পদত্যাগ ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন দীপেন দেওয়ান
ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করে হঠাৎ আলোচনায় আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কবিস্তারিত পড়ুন

এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেনবিস্তারিত পড়ুন

