৬০ বছর ধরে অনন্য স্বাদের মসলা-মুড়ি, বাদাম বিক্রি কলারোয়ার আব্দুল আজিজের


সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজারে। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ বাজার সেটি। ওই বাজারের এক সুপরিচিত নাম আব্দুল আজিজ। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি মসলা মুড়ি ও বাদাম ভাজা বিক্রি করে এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।
৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তি একটি ছোট দোকানে মুড়ি, চানাচুর, ছোলা ভুনা, বাদাম ভাজা, খাঁটি সরিষার তেল, লবণ, পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের সমন্বয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু মসলা মুড়ি। তার তৈরি এই খাবারের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিন কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে যান গয়ড়া বাজারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিশেষ কায়দায় কাগজের ঠোঙ্গায় ১০, ২০ ও ৩০ টাকায় মসলা মুড়ি বিক্রি করছেন। তার দোকানে প্রতিদিনই ভিড় লেগে থাকে ক্রেতাদের।
আব্দুল আজিজ জানান, ‘আমি ১৯ বছর বয়স থেকে এই পেশায় আছি। প্রায় ৫৬-৬০ বছর ধরে মসলা মুড়ি ও বাদাম ভাজা বিক্রি করছি। প্রতিদিন ১০-১২ কেজি বাদাম ভাজি, ৪-৬ কেজি ছোলা ভুনা করি। এছাড়া ১২-১৫ কেজি মুড়ি, ৫ কেজি চানাচুরসহ অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত করি। বিকালে গয়ড়া বাজারে দোকান খুলে বিক্রি শুরু করি, আর প্রতিদিনই সব বিক্রি হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন বয়স হয়েছে, শরীরও আগের মতো চলে না।’
স্থানীয় গ্রামচিকিৎসক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স ৪৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই দেখছি আজিজ চাচাকে এই ব্যবসা করতে। তার মসলা মুড়ির স্বাদ অসাধারণ। অল্প টাকায় এটি আমাদের এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার।’
স্থানীয় সংবাদকর্মী সুমন হোসেন বলেন, ‘আজিজ চাচার মসলা মুড়ি একেবারে ঘরোয়া ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তৈরি হয়। খাঁটি সরিষার তেল, ঝাল, পিঁয়াজ, ছোলা ভুনা ও বাদামের সমন্বয়ে তিনি যে স্বাদ তৈরি করেন, তা সত্যিই অনন্য। আমাদের এলাকায় অতিথি এলে আমরা প্রায়ই এই মসলা মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করি।’
পারিবারিক জীবনের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ জানান, তার পরিবারে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি নিঃসন্তান।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সততা ও মানসম্মত খাবার প্রস্তুতের কারণে আব্দুল আজিজ আজ গয়ড়া বাজারের এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম হয়ে উঠেছেন। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবারবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় মৎস্য চাষিদের মাঝে প্রদর্শনী উপকরণ বিতরণ
কলারোয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা
সাতক্ষীরা জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণেরবিস্তারিত পড়ুন


