সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
দেবহাটায় নিলামে খরিদকৃত সম্পত্তি বিক্রি করলেন ভারতীয় নাগরিক


নিলামে খরিদকৃত সম্পত্তি বিক্রি করলেন ভারতীয় নাগরিক। এমনই অভিযোগ নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করলেন শংকর কুমার ঘোষ (৫২)।
তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত অজিত কুমার ঘোঘের ছেলে।
তিনি বলেন, আমার বড় দাদা স্বপন কুমার ঘোষ (৬১) ১৯৮৯ সালে স্ত্রীসহ অবৈধ পথে ভারতে চলে যান। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট মহাকুমার দক্ষিণ আখড়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তার ভারতীয় ভোটার নম্বর জেএইসএন ২৬৭৩২০০. ক্রমিক নম্বর ২১৫. নির্বাচন তালিকা ২০১৭, রাজ্য (৫২৫)।
তিনি বলেন, আমার দাদা ভারতে চলে যাওয়ার পর তার নামীয় সম্পত্তি ৩ একর সাড়ে ৬১ শতক জমির খাজনা বকেয়া থাকায় বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি নিলাম হয়। নিলামকৃত ওই সম্পত্তি আমার স্ত্রী নমিতা রানী ঘোষ ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি নিলামে খরিদ করেন। যা আমাদের ভোগদখলে রয়েছে। এরপর বড় দাদা স্বপন কুমার ঘোষ বাংলাদেশে এসে ২০১৩, ও ২০১৪-২০১৫ সালে নমিতা রানী ঘোষের নামে দেবহাটা সেটেলমেন্ট অফিস ও আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আদালত খরিদকারী নমিতা রানীর পক্ষে রায় দেন। এরপর স্বপন ঘোষ নমিতা রানী ঘোষের পক্ষে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালে আপিল করেন নমিতা রানী ঘোষ। যার রিট পিটিশন নম্বর ৬৮৪৮. মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। যা অদ্যবধি কার্যকর রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করে বলেন, স্বপন কুমার ঘোষ ২০২৪ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে নমিতা রানীর নামীয় ৩ একর সাড়ে ৬১ শতক জমির মধ্যে আমার খুড়তুতো ভাই (চাচাতো ভাই) দীপংকর কুমার ঘোষের নামে লিখে দেন ২ একর ২০ দশমিক ৩৩ শতক জমি। আর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পদ্মশাখরা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ইনজামামামুল হকের নামে ৪৫ দশমিক ৬৭ শতক জমি গোপনে লিখে দিয়ে ভারতে চলে যান।
মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে যোগাসাজশে অতি গোপনে এই সম্পত্তি লিখে দেন আমার বড় দাদা স্বপন কুমার ঘোষ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এতে সহায়তা করেছেন পারুলিয়া তহশীল অফিসের নায়েব, রেজিষ্ট্রারসহ একটি চক্র।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সম্পত্তি আমার দখলে থাকলেও চক্রটি তাদের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে গত ৩ মার্চ বিকেলে জোর করে প্রাচীর ভেঙে দেয়। আর ৭ মার্চ ২৩ শতক জমি স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের সাথে নিয়ে দীপংকর ও কওসার আলী দখল করে নেয়। বিষয়টি দেবহাটা থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক। অনেক কষ্ট করে আমার স্ত্রী নমিতা রানী ঘোষের নামে সরকারের কাছ থেকে নিলামে সম্পত্তি খরিদ করে নিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী যাতে তার ন্যায্য সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা
সাতক্ষীরা জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণেরবিস্তারিত পড়ুন

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরাসহ ১০ জেলা
দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

দেবহাটায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন
দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিকবিস্তারিত পড়ুন


