সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত


মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিয়ানমারে অং সান সূচির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর মিন অং লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজন করে এক বছরের মধ্যে বেসামরিক শাসনে ফিরে যাবে দেশটি। তবে নির্বাচনের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর।
সংবিধান অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি নামমাত্র বেসামরিক শাসন। কারণ নতুন সংসদে তার অনুগতদের আধিপত্য রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত আসনও বহাল রয়েছে।
তিনি নতুন একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন। এই পরিষদের কাছে বেসামরিক ও সামরিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে। এক কথায় বলা যায়, সামরিক পোশাক খুললেও ক্ষমতা যেন না কমে সে বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন মিন অং হ্লাইং।
মিয়ানমারে গত নির্বাচনে অং সান সূচির দল বড় জয় পাওয়ার পরই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ব্যবহার করলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
দেশটিদে গত পাঁচ বছরে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়াও ভেঙে পড়েছে দেশটির অর্থনীতিও। বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে এখনো দেশের বড় অংশ রয়েছে। তাদের দমনে সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।
কিয়াও উইনের মতো তরুণ আন্দোলনকর্মীদের জন্য পরিবর্তনের সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ছাত্রাবস্থায় ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলে পাঠানোর আগে এক সপ্তাহ ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, তারা লোহার রড দিয়ে আমার পিঠে মেরেছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে, ছুরি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করেছে। তারপর তারা আমার অন্তর্বাস খুলে নিয়ে আমাকে যৌন নির্যাতন করেছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তারা যে আমার কাছ থেকে কী শুনতে চায় তা কখনোই স্পষ্ট ছিল না।
কিয়াও উইন বলেন, বিপ্লবের প্রতি তার অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মিয়ানমারের ভেতর থেকে এখন তিনি খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না। তিনি দেশের বাইরে কাজ খোঁজার কথা ভাবছেন।
মিন অং হ্লাইং নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে, যা তার সামরিক প্রভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসেবে, বর্তমানে দেশটিতে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনে রয়েছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

আমি ও আমার স্ত্রী মালয়েশিয়ার আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রায়বিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমেরবিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে তার বিস্তৃত ওবিস্তারিত পড়ুন


