গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন, আবার মানবেন না— এটা মুনাফেকি: গোলাম পরওয়ার


গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির কড়া সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে— তা কেবল সরকার বা রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে না দিয়ে তরুণদের এর পাহারাদার হতে হবে। নিজের দেওয়া ভোটের একটি অংশ মেনে অন্য অংশ অস্বীকার করা যায় না।’
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বিএনপি একবারও বলে না, আমরা গণভোট মানব। তারা বলেন, আমরা জুলাই সনদ মানব। এর অর্থ হলো—যে কয়েকটি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, সেগুলো বাদ দিয়ে যা থাকে, তাই মানব। ওই কয়েকটি বাদ দিয়ে যা থাকবে, তাতে সংবিধানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন হবে না। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন, আবার মানবেন না—এটা মুনাফেকি, দ্বিচারিতা।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একই মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া যমজ দুই সন্তানের একজনকে স্বীকার করে আরেকজনকে অস্বীকার করার মতো ঘটনা ঘটছে। একই দিনে হওয়া জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলের মধ্যে একটিকে গ্রহণ করে আরেকটিকে অস্বীকার করা যায় না।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপির নেতারা জুলাই সনদ মানার কথা বলছেন। তবে গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, গণভোটের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিয়োগ এবং সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ভিন্নমতের ওপর হামলার কোনো স্থান নেই। ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়াও রাজনীতির একটি বড় ব্যাধি। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চাঁদাবাজি, মস্তানি, লুটপাট ও মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিরোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তরুণরা মাদকবিরোধী মিছিল-র্যালি করছে, পুলিশকে সহযোগিতা করছে। কোথাও কোথাও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দও করছে। এ ধরনের উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এসব অপরাধ সমাজদেহে ক্যান্সারের মতো বাসা বেঁধেছে। রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসও সমাজের বড় ব্যাধি। তরুণদের নেতৃত্বে এসবের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে তরুণদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন বা প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়। পড়াশোনা, তথ্য অনুসন্ধান ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর ভালো ব্যবহার রয়েছে। তবে অনৈতিক কনটেন্টে আসক্তি তরুণদের চরিত্র ধ্বংস করতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদলের সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও সংঘাতে জড়াচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী ছাত্রশিবির আগে হামলা করেনি; আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিরোধ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের পরিবর্তে ছাত্রদল যদি একই ধরনের দখলদারি ও হামলার রাজনীতি করে, তাহলে শুধু দলের নাম বদলাবে, চরিত্র বদলাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এমন বাংলাদেশ কেউ চায়নি।
সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি, টেন্ডার ও অর্থ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
খুলনা বিভাগে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে। দলীয় পরিচয়ের কারণে অন্য কেউ জনপ্রতিনিধিদের কাজে খবরদারি করতে পারেন না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আগের দল ভাবত দেশটা তাদের বাপের। এখন দেশটা কার? দেশটা সবার। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়ে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগর জামায়াতে ইসলামির আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, খুলনা মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রাকিব হাসান প্রমুখ।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায়বিস্তারিত পড়ুন

বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা
প্রত্যাশিতভাবেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জাবিস্তারিত পড়ুন

৯০-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া: রিজভী
বেগম খালেদা জিয়াকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামের ‘মূর্ত প্রতীক’বিস্তারিত পড়ুন


