ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
যশোরের রাজগঞ্জে তীব্র গরমে চার্জার লাইট-ফ্যান ও সোলার পণ্যের বিক্রি বেড়েছে, দামও আকাশছোঁয়া


যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় চলমান প্রচণ্ড গরম ও অব্যাহত লোডশেডিং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকার কাটাতে ও সামান্য স্বস্তির হাওয়া পেতে অনেকেই ছুটছেন বাজারে। ফলে চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান ও সোলার বিদ্যুতের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি হঠাৎ করে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে আকাশছোঁয়া।
গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজগঞ্জ বাজারের ইলেকট্রনিক দোকানগুলোতে প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় একটি দোকানে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা গৌরীপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ থাকে না দিনে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা। রাতে আবার কখন যাবে তার ঠিক নেই। বাচ্চা নিয়ে ঘরে থাকা যায় না। বাধ্য হয়েই চার্জার ফ্যানের খোঁজে এসেছি। আগে যেটা ১২০০-১৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটা ২২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা চাইছে। কী করবো বলেন?”
অন্যদিকে হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের গৃহবধূ লাইলী বেগম বলেন, “রাতে ঘুমানো দায় হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাগুলো কাঁদে গরমে। চার্জার লাইট ছাড়া ঘরকন্নার কাজ করাই যায় না। কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম সব দ্বিগুণ। এরপরও কিনতে বাধ্য হচ্ছি।”
ক্রেতাদের মতো বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা।
রাজগঞ্জ বাজারের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জানান, “লোডশেডিং বাড়ার পর থেকেই প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে চার্জার ফ্যান ও সোলার লাইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে সরবরাহ কম হওয়ায় পাইকারিতে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।”
আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “মানুষ বিপাকে পড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমরা তো বেশি দাম নিতে চাই না। দোকানে মাল আনতেই আগের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে। তাই আগের দামে বিক্রি করাও সম্ভব না।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ- লোডশেডিংয়ের সময়সূচি না থাকায় জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ রাখতে পারছে না, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, আর শ্রমজীবী মানুষ দিনের পর দিন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক আব্দুল হালিম বলেন, “এই এলাকার মানুষ কয়েক মাস ধরেই বিদ্যুতের ভোগান্তিতে আছে। চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান ও সোলার পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। একইসঙ্গে বাজারে সরকারি মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ মানুষের দাবি- অবিলম্বে লোডশেডিং কমানো, বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সোলারসহ বিকল্প শক্তির সরঞ্জামে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হোক। রাজগঞ্জের মানুষ এখন একটাই প্রার্থনা করছেন-“বিদ্যুৎ থাক, তবেই গরমের কষ্ট কিছুটা কমুক।”
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘২৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট’ অফারের ফাঁদে নতুন প্রতারণা, ওটিপি দিলেই ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ
“২৫ জিবি প্রিমিয়াম ডেটা একদম ফ্রি”, “সব মোবাইল সিম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষবিস্তারিত পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থবিস্তারিত পড়ুন

মনিরামপুরে বাবার বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচবিস্তারিত পড়ুন


