বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

শ্যামনগর উপকূলের শ্রমজীবী শিশুদের হাতে এখন বই

এক বছর আগেও ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক শ্রম কখনো চিংড়ী, কখনো কঁাকড়া ও কখনো বিভিন্ন ধরণের মাছ ধরাসহ কঠোর পরিশ্রমের সাথে জড়িত ছিল ফয়সাল শেখ। দিনমান খাটতে হতো ছোট্ট ফয়সালকে। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে আয় করত মাত্র একশত টাকা। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তা তুলে দিত মায়ের হাতে। আশপাশে বিদ্যালয় না থাকায় পড়ালেখা হচ্ছিল না। কিন্তু এখন সেসব অতীত। ফয়সাল নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায়। আলোর উত্তরণ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের চতুর্থ শ্রেণির এই ছাত্রের চোখে এখন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
ফয়সাল শ্যামনগরের মথুরামপুর গ্রামের শেখ আবুজার ও ফরিদা বেগমের সন্তান।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার ফয়সাল শেখের মতো বহু শ্রমজীবী শিশু এখন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। উত্তরণ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এসব এলাকার শিশুদের জন্য খুলেছে উত্তরণ শিশু শিক্ষা কেন্দ্র নামের চারটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোতে পড়ছে ৩৫০ শ্রমজীবী শিশু। এরমধ্যে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৫ জন মেয়ে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সুইং মেশিন ও টেইলরিং এবং ২৫ জন ছেলে ইলেকট্রনিকস ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের বিষয়ে তিন মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

উত্তরণের শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাজমা আক্তার বলেন, শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ,কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের চার গ্রামে ৪ টি শিশুকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এই চার টি ইউনিয়নের চারটি লার্নিং সেন্টারে ৩৫০ জন শ্রমজীবী শিশুকে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের চিত্রাঙ্কন, সংগীতসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় যুক্ত করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে উত্তরণের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকের সঙ্গে গলা মিলিয়ে নামতা পড়ছে শিশুরা। চোখে-মুখে শ্রমের ক্লান্তি নেই। আছে দুষ্টুমির হাসি। শিশুদের এমন নির্ভার কষ্টহীন চেহারা দেখে খুশি অভিভাবকেরাও। বিদ্যালয়ের অদূরে দঁাড়ানো কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা ভাবতেই পারিনি এভাবে ওরা পড়ার সুযোগ পাবে। বাচ্চারা পড়ছে দেখে খুব ভালো লাগছে।’

এ শিখন কেন্দ্রের শিক্ষার্থী নয়ন মন্ডল, তাইজুল সরদার, ফুলঝুরি, সীমা বারুই, সোনামনি সরদারসহ কয়েকজন জানায়, শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে পড়তে তাদের ভালো লাগে। কারণ বিভিন্ন কাজ করার পাশাপাশি তারা এখানে পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকার এই শিশুদের ঝঁুকিপূর্ণ শ্রম থেকে মুক্ত করে শিখন কেন্দ্রে পড়াতে পেরে স্থানীয়দের মাঝেও উৎসাহ দেখা যায়।

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হোসেন জানান, মূলত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত স্কুল বহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে আনার জন্যই এ ব্যবস্থা। এটি দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া উপকূলীয় এলাকায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, উত্তরণের এডুকো প্রকল্পের এই কার্যক্রম উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। স্কুলটি যাতে স্থায়ীরূপ পায় সেজন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম. আবুজর গিফারী বলেন, শিশু শ্রম নিরসনে এসকল কার্যক্রমে এলাকার শ্রমজীবী ছেলে-মেয়েরা উপকৃত হচ্ছে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

সাতক্ষীরা জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণেরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নুর ইসলাম নামে এক জেলেরবিস্তারিত পড়ুন

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরাসহ ১০ জেলা

দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

  • ‎ব্লু ইকোনমি ও সাতক্ষীরা উপকূল ‎
  • শ্যামনগরের মিড-ডে মিলের খাবারবাহী গাড়িতে অগ্রিম উৎপাদন তারিখের বনরুটি, গাড়ি জব্দ
  • শ্যামনগরের গাবুরাতে পরিবারে আয় বৃদ্ধি করতে ১৪ জনকে গরু বিতরণ
  • শ্যামনগরের গাবুরাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকরণ বিতরণ
  • খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে শ্যামনগরে কৃষকদের বিক্ষোভ
  • সুন্দরবনে বনবিভাগের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে জেলের মৃ*ত্যুর অভিযোগ
  • সাতক্ষীরায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা
  • জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নে বাজেট বৃদ্ধির দাবি
  • শ্যামনগরে বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা
  • সাতক্ষীরার নবাগত ডিসিকে জামায়াতের এমপিদের ফুলেল শুভেচ্ছা: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • উপকূলীয় শিশু ও যুবদের মাঝে জার্সি বিতরণ ও খেলাধুলার উদ্ধুদ্ধকরণ
  • দেশসেরা সুস্বাদু আমে সয়লাব সাতক্ষীরার বাজার: গোবিন্দভোগ প্রতিমণ ১৬০০ টাকা