নুসরাত হত্যা মামলার রায়: অধ্যক্ষ সিরাজসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল


ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। একইসঙ্গে চারজনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি)মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম। যাদের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন, তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।
এছাড়া নুসরাত হত্যার মামলার রায় দেওয়া ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইন্ডলেস সেন্টেন্স তথা বিচারিক বিবেচনাবোধ প্রয়োগ না করে ১৬ আসামিকে ফাঁসি দেওয়ায় ওই বিচারকের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী খন্দকার মুশফিকুল হুদা, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাষদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে আদালত দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বহাল রেখেছেন। তারা হলেন এই মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে চারজনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তারা হলেন নুর উদ্দিন, জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা পপি।
১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্য থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কিংবা দণ্ডটি আদালতের দৃষ্টিতে বহাল থাকা উচিত নয় মর্মে ১০ জন ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন কামরুন নাহার মনি (ঘটনার সময় যিনি গর্ভবতী ছিলেন), হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন এবং মাকসুদ কাউন্সিলর। এই ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দৃষ্টিতে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই রায়ের পরে আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে রায়, সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এই মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক যিনি ছিলেন, বিচারক মামুনুর রশিদ—তার সম্পর্কে আদালত বলেছেন যে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদানটা অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স। অর্থাৎ আদালত তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার পুরোপুরি মনের কিংবা বিচারিক যে জুডিশিয়াল মাইন্ড থাকা দরকার, তিনি সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবং তিনি এই জাজমেন্টটা রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কার কীভাবে দণ্ড দেওয়া উচিত, কার কী কতটুকু মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা-সেটাও আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিচারক মামুনুর রশিদকে অবিলম্বে পেনাল এবং সেন্টেন্সিং-অর্থাৎ ফৌজদারি মামলার বিচার এবং সে ক্ষেত্রে তার দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্র থেকে তাকে সরিয়ে আনার জন্য আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রকাশ করেছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি ঘটান। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। আলোচিত সে রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত এবিস্তারিত পড়ুন

মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না: সিইসি
ভালো ভোট করার কমিটমেন্টে নির্বাচন কমিশন অটল রয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারবিস্তারিত পড়ুন


