সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র মুক্তারপুর বাজার নদীপথের ঐতিহ্য বহনকারী বাজার এখন জরাজীর্ণ

হেলাল উদ্দিন, মনিরামপুর : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত মুক্তারপুর বাজার এক সময় ছিল এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণকেন্দ্র। ষাটের দশক থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসমাগম এবং নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাজারটি ছিল এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু কালের বিবর্তন, যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক নানা ইস্যুর কারণে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী বাজারটি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় কপোতাক্ষ নদ ছিল এ অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমারে মানুষ যাতায়াত করত বিভিন্ন স্থানে। সেই সুযোগকে কেন্দ্র করে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠে মুক্তারপুর বাজার। মুক্তারপুর, সাদিপুর, নিঃপুর, বল্লা, কানাইরালী, তাঁজপুর, গোয়ালবাড়ী, কায়েমকোলা, মহাদেবপুরসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের কেনাবেচা ও সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র ছিল এই বাজার।

বাজারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নদী পারাপার। প্রতিদিন শত শত মানুষ কপোতাক্ষ নদের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াত করতেন। মৃত খোরসেদ আলীর নৌকা ছিল সে সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পারাপারের মাধ্যম। নদীঘাট ঘিরে প্রতিদিন সৃষ্টি হতো কর্মচাঞ্চল্য ও মানুষের পদচারণা।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ও সোমবার বসত বৃহৎ গ্রামীণ হাট। হাটে পান-সুপারি, দেশি মাছ, শাকসবজি, মিষ্টান্নসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যেত। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসতেন এ হাটে। বাজারের পাশেই অবস্থিত মুক্তারপুর-গোয়ালবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনাগোনাতেও বাজারটি ছিল সবসময় সরগরম।

বর্তমানে বাজারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একসময় যেখানে শতাধিক দোকান ছিল, সেখানে এখন টিকে আছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি দোকান। বাজারের বিভিন্ন স্থানে জমেছে ময়লার স্তূপ। অবকাঠামোর অভাব, নদীর নাব্যতা সংকট এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় বাজারটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্য হারিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মালেক বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় মুক্তারপুর বাজার ছিল এলাকার সবচেয়ে ব্যস্ত বাজারগুলোর একটি। হাটের দিনে মানুষের ভিড়ে হাঁটা দায় হয়ে যেত। এখন সেই বাজার প্রায় বিলুপ্তির পথে।”

প্রবীণ সমাজসেবক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাজারের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। তারপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্থানীয় বিরোধের কারণেও বাজারটি আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুর রহমান বলেন, “বাজারটি সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আবারও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহ্যবাহী মুক্তারপুর বাজারকে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। অন্যথায় এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই জনপদ ও ইতিহাসের সাক্ষী বাজারটি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।

একই রকম সংবাদ সমূহ

মনিরামপুরে বসুন্ধরা-শুভসংঘের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা

​​হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : শুভ কাজে, সবার পাশে” স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরেরবিস্তারিত পড়ুন

মনিরামপুরে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

“আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুরে সরকারেরবিস্তারিত পড়ুন

মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহিম (১৫) নামের এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

  • মনিরামপুরে দুদকের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন
  • নাগরিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
  • রাজগঞ্জ-পুলেরহাট-ত্রিমোহিনী সড়কে বেপরোয়া যানবাহন : ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা
  • রাজগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপান: কিশোরদের আসক্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি
  • অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের দৌরাত্ম্য: নেংগুড়াহাট-রাজগঞ্জ সড়কে ট্রাক্টরে মাটি পরিবহনে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও পরিবেশঝুঁকি
  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাক-প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় নিহত ৫, সবাই যশোরের
  • চতুর্থ স্তম্ভের নীরব কান্না- কষ্টে দিন কাটে অনেক সংবাদকর্মীর পরিবার
  • মনিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
  • মনিরামপুরে চার মাদকসেবীর জেল-জরিমানা
  • যশোরের রাজগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
  • মনিরামপুরে অবৈধভাবে কৃষিজমি খনন ও মাটি বিক্রি ৫ অভিযানে কারাদণ্ড ও জরিমানা