রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় চীন

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় চীন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের দিকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এক্ষেত্রে চীন কি সহযোগিতা করবে? জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, হ্যাঁ। আমরা বিশেষ করে জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের জন্য এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নের উপযুক্ত সময়। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এটি চীনের একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র। জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে এখানে আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এর আগে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এইমাত্র আমি মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো, গঠনমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, ড. মঈন খান চীনের একজন পুরোনো বন্ধু। তিনি বহুবার চীন সফর করেছেন এবং দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় চীন খুশি।

বৈঠকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে মন্ত্রীর দায়িত্বের আওতাভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, আমরা বিশেষভাবে ওয়েস্ট টু এনার্জি (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন) প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছি। এটি বাংলাদেশে প্রথম এ ধরনের প্রকল্প। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগির এটি উদ্বোধন করা হবে। এটি ঢাকা শহরের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য একটি মডেল প্রকল্প হবে।

ঢাকার বস্তি আধুনিকায়ন প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াও ওয়েন বলেন, এটি বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এর সঙ্গে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি। তিনি এসব মানুষকে আধুনিক শহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে চান।

বাংলাদেশ এরইমধ্যে বস্তি আধুনিকায়ন প্রকল্পটি চীনের কাছে উপস্থাপন করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যেহেতু এটি মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে, তাই বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তি আধুনিকায়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ জ্বালানি উন্নয়ন এবং বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। মাননীয় মন্ত্রীকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা যা কিছু করা সম্ভব, তা করবো।

ইয়াও ওয়েন বলেন, আমরা একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়তে চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন সংজ্ঞা। এই কাঠামোর আওতায় আমরা সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিচ্ছি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর গত দুই মাসে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে চট্টগ্রামে প্রথম চীন-বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মোংলা বন্দর প্রকল্প ও তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়েও দুই দেশ কাজ করছে। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী আবাসিক হল এবং এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীনা ভাষা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও বেশি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

চীন থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন জানান, এ বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে তিনি নেই।

একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ জেহাদের পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশের গুলিতে শহীদ কে.বিস্তারিত পড়ুন

চারদিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চারদিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরেবিস্তারিত পড়ুন

রাষ্ট্রের সংকট সমাধানে তরুণদের প্রশ্ন ও মতামত জরুরি: রিজভী

সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকট চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করতে তরুণদেরবিস্তারিত পড়ুন

  • বাংলাদেশ অন্য দেশের অংশীদার হতে চায়, নির্ভরশীল নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস
  • বাংলা কিউআরে বছরে ২ লাখ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্বের সম্ভাবনা
  • উড্ডয়নের পর খুলে পড়ল বিমানের চাকা, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
  • দেশে মাদক মহামারি আকার ধারণ করছে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
  • স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করেছে সরকার: চিফ হুইপ
  • বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
  • দুই মাসে সারা দেশে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল, হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
  • আমরা ভারতবিরোধী না, আধিপত্যবাদ বিরোধী: আসিফ মাহমুদ
  • শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণে মায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেই প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
  • পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতকে ছাড় দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী