শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা


জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘লবণাক্ততা নিরসন এবং উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এগ্রোইকোলজি লার্ণিং সেন্টার এর তত্ত্বাবধায়ক গোবিন্দ মণ্ডল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট-তেরকাটি গ্রামের প্রবীণ কৃষক সাধন কুমার বিশ্বাস।
প্রশিক্ষণে উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের কারণে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণে কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বেড পদ্ধতি, প্রাকৃতিক মালচিং, জলপট্টি, স্যালাইন পদ্ধতি ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক বীজ ব্যাংক গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময়ের প্রচলন জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিকল্পনা সভার মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা, স্থানীয় জ্ঞান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য হীরা পারভীন, পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী, বারসিকের মনিকা পাইকসহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

শ্যামনগরে ৬৯ বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন
বয়স ৬৯ বছর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জোটেনি সরকারি বয়স্ক ভাতার কার্ড।বিস্তারিত পড়ুন

সুন্দরবন, নদী ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা, পরিবেশ রক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি, নদ-নদী, খাল-বিল, জলাভূমি, কৃষিজমি এবং নানাবিস্তারিত পড়ুন

বনদস্যু নির্মূল দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি
সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলের দাবিতে সাতক্ষীরা উপকূলে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বনজীবীরা। সোমবারবিস্তারিত পড়ুন


