সংকটে সাতক্ষীরার জনজীবন: বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অবসান ঘটবে কবে?


তারিক ইসলাম: বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদার মতোই এক অপরিহার্য উপাদান। বিদ্যুৎ আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা সাতক্ষীরার মানুষ এখন এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। গত বেশ কিছুদিন ধরে জেলাজুড়ে যে তীব্র ও অনিয়মিত লোডশেডিং চলছে, তা কেবল নাগরিক অস্বস্তি বাড়ায়নি, বরং পুরো জেলার অর্থনীতি ও জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। কারণ বা অজুহাত যা-ই হোক না কেন, এই সংকটের একটি দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন সাতক্ষীরার লাখো মানুষের সময়ের দাবি।
সাতক্ষীরায় এখন বিদ্যুৎ থাকাটাই যেন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, আর লোডশেডিংটাই নিয়ম। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম— সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন কাটানো এখন এখানকার মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটের বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। সাতক্ষীরার অর্থনীতি অনেকাংশে চিংড়ি চাষ, কোল্ড স্টোরেজ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে বরফ কলগুলো চাহিদা মতো বরফ উৎপাদন করতে পারছে না, ফলে মৎস্য শিল্পে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলা রাখতে পারছেন না, সচল রাখা যাচ্ছে না কলকারখানার চাকা। এতে করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেনারেটর দিয়ে কতক্ষণ জরুরি সেবা চালানো সম্ভব? অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে আইসিইউ— সবখানেই এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গরমে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের অবস্থা অবর্ণনীয়।
শিক্ষা খাতের ক্ষতিও কোনো অংশে কম নয়। সামনে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা। এই সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা টেবিলে বসতে পারছে না। তীব্র গরমে রাতের বেলা পড়াশোনা তো দূরের কথা, একটু শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগও তারা পাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আমরা জানি, জাতীয় গ্রিডে নানা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে কিংবা স্থানীয় সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু দিনের পর দিন একটি পুরো জেলাকে এভাবে বিদ্যুৎহীন রেখে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার গল্প শোনানো অবান্তর। সাতক্ষীরার মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কেন এই বৈষম্য ও ভোগান্তির শিকার হবে— এই প্রশ্ন আজ সর্বস্তরের নাগরিকের।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে আমাদের আকুল আবেদন— সাতক্ষীরার এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে আর দীর্ঘায়িত করবেন না। অনতিবিলম্বে এই সংকটের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। প্রয়োজনে সঞ্চালন লাইনের আধুনিকায়ন এবং আপদকালীন বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সাতক্ষীরার জনজীবনে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আশাশুনিতে ক্যাম্পেইন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি মডেল মসজিদের হলরুমে দিনব্যাপী পরিবেশ ক্যাম্পেইনেরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় ঝুপড়ি ঘরে মানবিক সংকটে বাক প্রতিবন্ধী
প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মই যেন আজন্ম পাপ শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিকের। এখন তারবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
“জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিস্তারিত পড়ুন


