শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিলো স্পেন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলো যখন সীমান্তে দেয়াল তুলছে, তখন স্পেন হাঁটছে ভিন্ন পথে। যখন আশপাশের দেশগুলো অভিবাসী বহিষ্কার নিয়ে আলোচনা করছে, তখন স্পেন অন্তর্ভুক্তির পথ বেছে নিয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হলো, যাদের এত দিন ‘অদৃশ্য’ বলা হতো, তারাই স্পেনের উন্নয়নের বড় চলনশক্তি।

এই প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার ‘রাজকীয় ডিক্রি’ বা বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরপরই কোনো দীর্ঘ সংসদীয় বিতর্ক ছাড়াই এটি কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্ত শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং ইউরোপের কোনো একক দেশে নেওয়া সবচেয়ে বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর একটি। এর মাধ্যমে স্পেন নিজেকে অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।

একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের আর কোনো দেশ এত বড় পরিসরে অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেয়নি। আগে ইতালি বা গ্রিস সীমিত আকারে কিছু খাতে অভিবাসী নিয়মিতকরণ করলেও, স্পেনের এই ডিক্রি গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে হাই-টেক স্টার্টআপ—সব খাতের জন্য উন্মুক্ত। এমনকি ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘সাপাতেরো নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচিকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।

বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও ভালেন্সিয়ার মতো শহরে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি পরিবারের জন্য এই ডিক্রি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কঠিন জীবন কাটাচ্ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। পর্যটন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসা খাতে কাজ করা এসব প্রবাসী এখন বৈধ শ্রম চুক্তি করতে পারবেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং নির্বিঘ্নে দেশে পরিবারের কাছে যাতায়াত করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ‘ছায়া শ্রমিক’ সুরক্ষিত নাগরিক জীবনে প্রবেশ করবেন।

স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দেশটির কল্যাণ রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রয়োজন। পাঁচ লাখ মানুষকে বৈধ করলে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ইউরো কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান সরকারি কোষাগারে যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ডিক্রি বিশেষভাবে নির্মাণ শিল্প, বয়স্কদের যত্ন ও সেবা খাতের শ্রম সংকট কমাতে সহায়ক হবে। যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও পদেমোস দলের এই ‘রাজকীয় ডিক্রি’কে অনেকেই রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। সংসদীয় ভোট এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধীদের বাধা দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। ফলে অনিশ্চয়তায় থাকা পাঁচ লাখ মানুষের জন্য বৈধতার পথ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত সমর্থন চেয়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

সাইকেলে চড়ে ১৯ বছরে ১৯১ দেশ ভ্রমণ বাঙালির

প্রায় দুই দশক ধরে সাইকেল চালিয়ে একের পর এক দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেনবিস্তারিত পড়ুন

  • সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ব্রিটেন সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার
  • জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৬ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি সই
  • উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
  • বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান
  • বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
  • বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
  • গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
  • অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর
  • বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান
  • ‘বিগ-বি’ উদ্যোগে একমত জাপান, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ প্রত্যাশা
  • বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব হোক যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী