র্যাবের নাম বদলে হচ্ছে ‘এসআরবি’, তৈরি হচ্ছে নতুন আইন


নারায়ণগঞ্জ সাত খুনসহ অতীতে নানা ঘটনায় আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও আইনি কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বাহিনীটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই বাহিনীর জন্য একটি নতুন আইনের খসড়াও প্রস্তুত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং এই বিশেষায়িত বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে শিগগিরই খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ, ১৯৭৯’-এর অধীনে গঠিত বর্তমান র্যাব বিলুপ্ত করা হবে। এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠন, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এসআরবি নামের এই বাহিনীটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত সহায়ক বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন আইনের এই খসড়াটি বর্তমানে প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে কিছু কারিগরি ও ভাষাগত পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এর মূল প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। মন্ত্রিসভায় খসড়াটির প্রাথমিক বা নীতিগত অনুমোদনের পর তা পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (আইনি পরীক্ষা) জন্য। সেখান থেকে পরিমার্জিত হয়ে আসার পর তা আবার মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এরপর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন ও পাসের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিক আইনে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে বলা হয়েছে, র্যাব বিলুপ্ত হলেও এর বিদ্যমান সব সম্পদ, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব, চুক্তি, কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো নতুন গঠিত এসআরবির অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে। এ ছাড়া এসআরবির নিজস্ব নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের বর্তমান বিধিমালাগুলোই কার্যকর থাকবে।
নতুন আইনি কাঠামোতে এসআরবির মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে থাকবে—দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, সন্ত্রাস দমন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ প্রয়োজনে সহায়তা করা এবং সরকার বা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা। কার্যকর অভিযান পরিচালনার স্বার্থে এই বাহিনীকে সন্দেহভাজন স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি এবং অপরাধীকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘কোটি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘুরিনি, প্রমাণ দিতে হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের করা একটি চাঞ্চল্যকর দাবির জবাবে মুখবিস্তারিত পড়ুন

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে যে প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে সরকার
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে দেশেবিস্তারিত পড়ুন

১৯৭ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ব্যতিক্রমী এক সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারিবিস্তারিত পড়ুন

