রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাতক্ষীরায় একসময়ের অপরিহার্য ‘হারিকেন’ এখন চোখেই পড়ে না

তাসিন মাহমুদ, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। গেলো বছর ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ সময় তাঁর জীবনে প্রথম স্বচক্ষে ‘হারিকেন’ দেখলো, স্পর্ষ করলো। ‘আম্ফান’ এর তান্ডবে সাতক্ষীরাঞ্চল যখন লন্ডভন্ড, গাছগাছালি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙ্গে গেছে তখন স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুত সরবরাহ স্থানভেদে কয়েকদিন বন্ধ ছিলো। সঙ্গত কারণে সেই কয়দিন মোমবাতির পাশাপাশি ‘হারিকেন’ দেখা গিয়েছিলো কিছু কিছু বাড়িতে। তবে ওই কয়দিনই। বাড়ির গৃহস্থলিরা অনেক বছর পর ফেলে রাখা জিনিষপত্র থেকে পুরোনো জরাজীর্ণ হারিকেন খুঁজে বের করে সাময়িকের জন্য চালুর ব্যবস্থা করেছিলো। ঘটনাটি বাস্তব।

‘হারিকেন’ পরিচিতি একটি শব্দ, নাম। তবে এখন সেটার বাস্তবিক প্রয়োগ নেই কিংবা চোখেও দেখা মেলে না।
বছর কয়েক, বড় জোর এক-দেড় যুগ আগেও রাতের অন্ধকার দূর করতে গ্রামবাংলার এমনকি মফস্বল এলাকাতেও অপরিহার্য ভরসা ছিল হারিকেন ও কুপি বাতি (টেমি)। আধুনিকতার ছোয়া আর কালের বিবর্তনে সেই হারিকেনের ঠিকানা হয়েছে জাদুঘরে। বর্তমান প্রজন্ম কিংবা শিশু থেকে কিশোর-যুবকদের অনেকেই স্বচক্ষে দেখেনি ‘হারিকেন’ ও ‘টেমি’।

দৃশ্যটি সাতক্ষীরা অঞ্চলে।

আগে সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলে একমাত্র আলোর উৎস ছিল হারিকেন। যাকে রাতের বন্ধু ডাকা হত। অনেকেই পড়ালেখা করেছেন হারিকেনের মৃদু আলোয়। গৃহস্থালী এবং ব্যবসার কাজেও হারিকেনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। হারিকেন জ্বালিয়েই বাড়ি উঠানে বা বারান্দায় পড়াশোনা করতো শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় পথ চলার জন্য ব্যবহৃত ছিল হারিকেন।

হারিকেন হচ্ছে জ্বালানি তেলের মাধ্যমে বদ্ধ কাঁচের পাত্রে আলো জ্বালাবার ব্যবস্থা। হারিকেনের বাহিরের অংশে অর্ধবৃক্তার কাঁচের অংশ থাকে, তেল শুষে অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে আলো জ্বালাবার জন্য কাপড়ের শলাকা থাকে এবং সম্পৃণ হারিকেন বহন করার জন্য এর বহিরাংশে থাকে একটি লোহার ধরনি। হারিকেনের আলো কমানোর বা বাড়ানোর জন্য বহিরাংশে থাকে একটি চাকটি যা কমালে বা বাড়লে শলাকা ওঠা নামার থাকে যা দ্বারা আলো কমা বা বাড়ানো যায়।

জানা গেছে, মোঘল আমলে হারিকেনের প্রচলন শুরু হয়। রাতের আধারে বিকল্প আলোর উৎস হিসাবে ধীরে ধীরে গ্রামবাংলায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে হারিকেন। তবে এখন সেই হারিকেনের ঠাঁই হচ্ছে জাদুঘরে। হারিকেনের স্থান দখল করেছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক বাতি। বৈদ্যুতিক ও চায়নাবাতির কারণে শহরে হারিকেনের ব্যবহার অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে। চার্জার লাইট, সৌর বিদ্যুত সহ বেশ কিছু আলোর যোগান থাকায় এখন আর কেউই ঝুঁকছেন না হারিকেনের দিকে। ফলে সেই আলোর প্রদীপ এখন গ্রাম থেকেও বিলুপ্ত হচ্ছে। হারিকেনের জ্বালানি আনার জন্য প্রতি বাড়িতেই থাকতো কাচের বিশেষ ধরনের বোতল। সেই বোতলে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। হাটের দিনে সেই রশিতে ঝুলানো বোতল হাতে নিয়ে যেতে হতো হাটে। এ দৃশ্য বেশি দিনের নয়। পল্লী বিদ্যুতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না।

প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য কুপি বাতি (টেমি) ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি।

প্রবীণদের মতামত এক সময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কী ও হারিকেনের ইতিহাস।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় এমপির উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচ পরিত্যক্ত, মাঠে উত্তজেনা!

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় জুলাই অভ্যুত্থান দবিস উপলক্ষে যুব জামায়াতরে উদ্যোগে আয়োজতি ১৪ দলীয়বিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়া শিশু ল্যাবরেটরী স্কুলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

কলারোয়ায় নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে শিশু ল্যাবরেটরী স্কুলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।বিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়া আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর দাফন সম্পন্ন

কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার গণিতের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টু ইন্তেকাল করেছেন।বিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ায় প্রবাসীর ঘর নির্মাণে অনিয়ম, জাল চুক্তিপত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি
  • কলারোয়ায় বিএনপি নেতা বাচ্চুর পিতা শেখ আব্দুল আজিজ আর নেই
  • কলারোয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ
  • ভাষা সৈনিক ও শিক্ষক নেতা শেখ আমানুল্লাহ’র মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া
  • কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি
  • কলারোয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ মাসের কারাদন্ড
  • কলারোয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান
  • কলারোয়ায় ‘মা’-ই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শীর্ষক সেমিনার
  • কলারোয়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১
  • কলারোয়ায় যুব জামায়াতের ১৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
  • দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি.এম নূর ইসলামের মৃত্যুতে কলারোয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক
  • কলারোয়ায় মোয়াজ্জেম চেয়ারম্যানের বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেনের ইন্তেকাল