বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পিতৃভিটায় সুরের আবাহন: উথলীতে শ্রদ্ধা ও আনন্দে মহালয়া উদযাপিত


যে কালজয়ী কণ্ঠের জাদুতে শতবর্ষ ধরে প্রতি শরতে বাঙালি হৃদয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা পৌঁছে যায়, সেই বেতার আকাশবাণীর মহানায়ক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিবিজড়িত পিতৃভিটায় ধ্বনিত হলো মহালয়ার অমর সুর। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে সারাদিন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উথলীতে তাঁর পবিত্র পিতৃভিটায় পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা ও অপরিসীম উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শুভ মহালয়া।
ভোরবেলা সূর্যোদয়ের পূর্বেই চারপাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী চণ্ডীপাঠ, স্তোত্র ও ভক্তিগীতি। যেন ফিরে আসে আবহমান বাংলার সেই মহালয়ার রূপময় প্রভাত। এরপর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নিকটস্থ জলাশয়ে তর্পণকারীরা সমবেত হয়ে তিল, জল ও কুশের সাহায্যে পুরোহিতের বেদমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আত্মার পরম শান্তি কামনায় তর্পণ ও পিণ্ডদান সম্পন্ন করেন। একই দিনে মণ্ডপে বিশেষ পূজার আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিমাশিল্পীরা প্রতিমার চোখে তুলির শেষ ছোঁয়ায় চক্ষুদান সম্পন্ন করেন, যার মধ্য দিয়ে মৃণ্ময়ী প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রতীকী সূচনা ঘটে। সকালে উথলীতে বের হয় এক আনন্দমুখর প্রভাতফেরি, যেখানে সুরের মূর্ছনায় প্রতিধ্বনিত হয় আগমনী গান।
পরে উথলী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোকময় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৃণাল কান্তি ভদ্র। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “চণ্ডীপাঠের যে মহানায়ক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কালজয়ী ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তাঁর এই পিতৃভিটায় মহালয়ার প্রতিটি সুর আমাদের শিকড়ের টানকে নতুন করে জাগ্রত করে। এটি কেবল কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসকে শ্রদ্ধা জানানোর এক মহতী প্রয়াশ।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় বলেন, “মহালয়ার সূচনালগ্নে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সুরের মধ্য দিয়ে অমঙ্গলকে পরাজিত করে শুভ শক্তিকে জাগ্রত করার যে আহ্বান, তা আজ পুরো মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।” তালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এমন অনন্য ঐতিহাসিক স্থানটি সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও চেতনার এক প্রদীপ্ত শিখা।”
সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “চণ্ডীপাঠের অমর শিল্পী, বেতারের মহানায়ক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের এই ঐতিহাসিক পিতৃভিটা কেবল একটি ভিটা নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য রত্ন। এটিকে রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক উদ্যোগে সংরক্ষণ করে একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।” ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক বলেন, “সামাজিক সম্প্রীতি ও সার্বজনীন উৎসবের যে আবহ আবহমান বাংলায় প্রবাহিত, উথলীর এই প্রাঙ্গণ তারই এক অনুপম নিদর্শন।”
নারায়ণ মজুমদারের প্রাণবন্ত পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রাসঙ্গিক ও আবেগঘন বক্তব্য তুলে ধরেন অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, গাজী সুলতান আহমদ, ভারত থেকে আসা ভদ্র পরিবারের সন্তান অসীত ভদ্র, মহিলা ইউপি সদস্য লাকি বেগম, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলী, বর্ণমালা একাডেমির প্রধান শিক্ষক পল্লব মজুমদার, গোবিন্দ ভদ্র, শান্তু ভদ্র, শুভ্র শশি ভদ্র, মধু ছন্দা ভদ্র, কৃষ্ণা রাণী ভদ্র, মিতা রাণী ভদ্র, বৈশাখী ভদ্র ও গীতা রাণী ভদ্র প্রমুখ।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় ‘অধিকার’র ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় এক বর্ণাঢ্যবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে কৃতি শিক্ষার্থীবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় মানব পাচার প্রতিরোধে সক্রিয় কর্মী দলের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ
সাতক্ষীরায় মানব পাচার প্রতিরোধে সক্রিয় কর্মী দলের দিনব্যাপী রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন


