প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী


প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি বা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিলেই তা ফিরে পাওয়া যায় না; বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিন তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু আপনি এখন প্রতিশোধ নিলেই কি আপনার সেই ক্ষতি ফেরত পাবেন বা সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। তাহলে আমরা সেই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি যে, আমরা দেশ ও সমাজের জন্য কী করতে পারি? সফল হওয়া বা না হওয়া পরের ব্যাপার। অন্তত এই মানসিকতা নিয়ে কেন আমরা সামনের দিনে এগিয়ে যাব না?’
তিনি বলেন, ‘১৬ জুন সংবাদপত্র জগতের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে একসময় বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আর আজ সেই দিনে আমরা সংখ্যক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছি। তার মানে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে, সংবাদপত্রের কণ্ঠ যেভাবে চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এই মুহূর্তে আর নেই। এটি প্রথম বিষয়।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘দ্বিতীয় বিষয় হলো, সংবাদপত্রের যে মাল্টি-পার্টি ডেমোক্রেসি (বহুদলীয় গণতন্ত্র), সেটিকে কেড়ে নিয়ে মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ নামে একটি দল গঠন করা হয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন এবং একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর থেকে সমন্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। পরবর্তী সময়ে কী হয়েছে তা আপনাদের কথা থেকেই বেরিয়ে এসেছে।’
বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় দেশের যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী কম-বেশি মাদকের সমস্যা থাকলেও আমাদের এখানে প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এ সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। ’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারাদেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট। ’
তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারাদেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব পরিবারের সন্তানরা এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। ’
শুধু খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানের কাভারেজ বেশি বেশি দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ই ডিসেম্বর বা ২১শে ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না। যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে। স্কুলপর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত— বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থক তিনি
এদিকে, পুরো বিশ্ব এখন বুঁদ ফুটবল উদ্দমনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও এ আবহের বাইরে নন। পুরো বাংলাদেশ যেখানে মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা-এই দুই শিবিরে বিভক্ত, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্য ইঙ্গিত দিলেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কোন দেশকে সমর্থন করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন একটি দেশে (ইংল্যান্ড) ছিলাম, বুঝতেই পারছেন।’
উল্লেখ, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে গত ১২ ফেব্রয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয় পায়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ঈদের মাংস বিতরনকালে ফুড ফর অল এর কাছে ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় পিতার আর্তনাদ
কোরবানির ঈদের আনন্দ যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই রাজশাহীর বাঘা উপজেলারবিস্তারিত পড়ুন

সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেননিবিস্তারিত পড়ুন

ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ICT কোচিং সেন্টার মঙ্গলবারবিস্তারিত পড়ুন

