বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাতক্ষীরায় কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব

এবিএম কাইয়ুম রাজ, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

শ্যামনগরের ১৪টি গ্রামের ৩১ জন কৃষকের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় শ্যামনগর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপস্থাপন করেন বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বারসিকের উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার।

গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা ধান ও সবজি চাষে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে অনেক সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ও মারাত্মক বিষাক্ত পণ্যও রয়েছে। এসাটপ, ক্যারাটে, ডেল এক্সপার্ট, ফার্মকট, জোয়াস, কনজাপ্লাস, মিমটক্স, মর্টারসহ বেশ কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক সরাসরি ফসলে প্রয়োগ করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকরাই এসব স্প্রে করছেন এবং তারা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন।

ফলে অনেক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ও লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছেন। কারও কারও চিকিৎসা ব্যয় ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ব্যয় মেটাতে অনেককে সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে কিংবা ঋণ নিতে হয়েছে।

এছাড়া কীটনাশকের প্রভাবে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং জলজ প্রাণির মৃত্যু, শিশু ও বৃদ্ধদের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমনকি ক্ষেতের সবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক নজরুল ইসলাম, গহর কয়াল, গোপাল মন্ডল, কেনা মন্ডল ও কওছার তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, অধিক ফলনের আশায় বিক্রেতাদের পরামর্শেই এসব বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিক কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিলন, প্রতিমা রাণী চক্রবর্তী, স্থানীয় সাংবাদিক, যুব সংগঠক ও কৃষক প্রতিনিধিরা।

বারসিকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপকূলীয় জনপদ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ নির্দেশনা প্রদান, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার, স্প্রে কাজে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং জৈব কৃষি পদ্ধতির প্রসারে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা জোরদারের দাবি জানান।

গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি নয়, সমগ্র সমাজ ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে এখনই দায়িত্বশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

একই রকম সংবাদ সমূহ

শ্যামনগরে জীবন-জীবিকা উন্নয়নে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

পরিতোষ কুমার বৈদ্য : শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাবুরা মেীজার ৫০নং গাবুরা সরকারিবিস্তারিত পড়ুন

শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন কৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণেরবিস্তারিত পড়ুন

শ্যামনগরে সম্পদ ভিত্তিক কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ

সিসিডিবির শক্তি প্রকল্পের উদ্যোগে সম্পদ ভিত্তিক কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন বিষয়ক দুই দিনব্যাপীবিস্তারিত পড়ুন

  • শ্যামনগরে পরিবারে আয় বৃদ্ধি করতে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ
  • সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
  • শ্যামনগরে প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের
  • উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ ও চারা রোপণে ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার
  • শ্যামনগর উপজেলা অনলাইন নিউজ ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
  • শ্যামনগরের আতরজান মহিলা কলেজে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
  • শ্যামনগরের লবনাক্ত এলাকায় মিষ্টি পানির প্ল্যান্ট, মিলছে সুপেয় পানি
  • শ্যামনগরে বিদ্যালয়ের অফিসে আগুন: পুড়ে গেছে কম্পিউটার, শিক্ষা উপকরণ ও নথিপত্র
  • শ্যামনগরে স্থানীয় মানুষের অধিকার এবং এ্যাডভোকেসি বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপ্তি
  • বিলিভার্সের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ে সাতক্ষীরার শোরুমে ভাগ্য খুলল শ্যামনগরের জাহাঙ্গীর আলমের, পেলেন আইফোন
  • শ্যামনগরে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা : জাতীয় গ্রিডে যাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ
  • জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে: গাজী নজরুলের বিষয়ে বিচারক