মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

বিয়ের দু’-তিন দিনের মধ্যেই যে গ্রাম থেকে পালান বেশির ভাগ নববধূ!

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম দান্ডিচি বারি। ছোট ওই গ্রামে সর্বসাকুল্যে ৩০০ মানুষের বসবাস। কিন্তু এই গ্রামে কোনও পুরুষের বিয়ে হলে আনন্দ করার বদলে শঙ্কায় দিন কাটে। বিয়ে হওয়া সত্ত্বেও সুখী সাংসারিক জীবন কেমন হয় তা এই গ্রামের অনেক পুরুষই জানেন না। কারণ এই গ্রামে বেশির ভাগ নববধূই বিয়ের পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

জানা গেছে, দান্ডিচি বারি গ্রামের বাসিন্দারা সারা বছরই খাবার পানির সমস্যায় পড়েন। তীব্র পানি সংকটের মধ্যে থাকলেও যারা এই গ্রামে বড় হয়েছেন, তারা এই জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত। কিন্তু সমস্যায় পড়েন তারা, যারা বাইরে থেকে এই গ্রামে আসেন। আর তাদের মধ্যে অধিকাংশই নববিবাহিতা।

শ্বশুরবাড়িতে কিছু দিন কাটানোর পর তারা খাওয়ার পানি সঙ্কট নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, এই গ্রামে থাকতে চান না। বিয়ে-স্বামী-শ্বশুরবাড়ি সব ফেলে ফিরে যেতে চান বাপের বাড়ি। এই গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ ওয়াঘমারে এ রকমই একটি বিয়ের কথা শুনিয়েছেন, যা মাত্র দু’দিন টিকেছিল।

গোবিন্দ বলেন, ২০১৪ সালে গ্রামের এক জনের বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ে মাত্র দু’দিনের জন্য স্থায়ী হয়েছিল। বিয়ের দু’দিনের মাথায় স্বামীর ঘর ছাড়েন ওই বধূ। এই ঘটনা লোকমুখে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পানি আনার জন্য ওই নববধূ গ্রামের বাকি গৃহবধূদের সঙ্গে পাহাড়ের নীচে গিয়েছিলেন। এতেই বুঝে গিয়েছিলেন এই গ্রামে বসবাস করা কতটা কঠিন।

অনেকটা পথ পেরিয়ে পাহাড়ের নীচ পর্যন্ত গিয়ে পানি আনতে হয় গ্রামের নারীদের। ওই নববধূ বুঝে গিয়েছিলেন, ওই গ্রামে থাকলে তাঁর জীবন কঠিন হয়ে যাবে। পালানো ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই। তাই পিানি আনতে গিয়ে সেখানেই জলের কলসি রেখে ওই বধূ বাপের বাড়ি পালিয়ে গিয়েছিলেন।

গোবিন্দ আরও জানিয়েছেন, এই গ্রামের নারীদের প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন মাস, দেড় কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পাহাড়ের নীচে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া একটি নদী থেকে পানি আনতে হয়। শুকনো নদীর সামনে থাকা পাথরের ফাটল থেকে গ্রামের গৃহবধূদের পানি ভরতে হয়। কিন্তু ফাটলের ভিতরের পানি ফুরোলে সেই পানি আবার ভর্তি হওয়ার জন্য নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরপর দু’টি করে পাত্র মাথায় চাপিয়ে তাদের আবার পাহাড় ডিঙিয়ে গ্রামে ফিরতে হয়।

গ্রামের নারীরা দিনে দু’বার পাহাড়ের নীচে পানি আনতে যান। ভোর ৪টা থেকে পানি আনার তোড়জোড় শুরু হয়। গ্রীষ্মকালে বেশির ভাগ দিনই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। সেই গরমেই পাথুরে রাস্তা হেঁটে পেরোতে হয় গ্রামের নারীদের। গ্রামের এক বাসিন্দা লক্ষ্মীবাই ওয়াসলে বলেন, একটি কলসি পূর্ণ হতে তিন ঘণ্টাও লাগতে পারে। পানি ভরে ফিরতে অনেক সময়েই রাত হয়ে যায়।

লক্ষ্মীবাই জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে বন্য প্রাণীদের হামলার ভয়ও থাকে। আর সেই কারণে রাতে ফেরার সময় মশাল জ্বালিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। সঙ্গে থাকে টর্চও। রাস্তা ধরে মাথায় দু’টি কলসি এবং হাতে টর্চ জ্বেলে বাড়ি ফেরেন গ্রামের নারীরা। এই কষ্টকর জীবন কাটাতে রাজি থাকেন না অনেক নারীই। আর এই কারণে বিয়ে করে আসার পর অনেক নববধূ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

একই রকম সংবাদ সমূহ

রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির

ভারতে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেবিস্তারিত পড়ুন

ভারতের পুনেতে যৌনপল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি তরুণী উদ্ধার

ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে পাচার করার পর পুনের কুখ্যাত যৌনপল্লিতে বিক্রিবিস্তারিত পড়ুন

৬ আরোহী নিয়ে ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের চামোলি জেলায় ছয়জন আরোহী নিয়ে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

  • স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, পুলিশের গুলিতে আসামি নিহত
  • ভারতের পার্লামেন্টের কাছে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবনে ভয়াবহ আগুন
  • মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ
  • শ্মশানের পাশে মোদির ছবি রেখে ‘কালো জাদু’, তদন্তে পুলিশ
  • কাজ বাঁচাতে জরায়ু কেটে বাদ দিচ্ছেন ভারতের আখ কাটা শ্রমিকরা
  • আসামে ১১০০ মুসলিম বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হয়েছে ১০ মসজিদ
  • ককরোচদের ঠেকাতে আত্মপ্রকাশ করল ‘লাল হিট জনতা পার্টি’
  • কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে নিহত ১৮
  • ভারতে সরকারের পতন হবে গণতান্ত্রিকভাবে: অভিনেতা প্রকাশ রাজ
  • বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে: ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
  • মমতা ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ
  • দিল্লিতে বাসার সামনে থেকে আটক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল