মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাতক্ষীরায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ কতটা সত্য?

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষি বিভাগের বৃক্ষরোপণ ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কৃষকদের কম পরিমাণ জৈব সার এবং নিম্নমানের বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সদ্য যোগদান করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র।

এঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং থেকে পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। পৃথকভাবে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান রফিকুল ইসলাম।

কী নিয়ে অভিযোগ?
গত ২৯ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মিলনায়তনে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় রোপা আমন ধানের বীজ ও সার, বিভিন্ন সবজির বীজ, নারিকেলের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

এর কয়েক দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সরকারি নির্দেশনায় প্রতিজন কৃষকের জন্য ১৫০ কেজি গোবর সার বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪০ কেজি সার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি খুঁটির সরকারি মূল্য ৫০ টাকা ধরা হলেও কৃষকদের নিম্নমানের বাঁশ সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার গ্রহণের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ ওঠে।

কী বলছে কৃষি বিভাগ?
অভিযোগের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।

তিনি জানান, তিনি ১৬ জুন ২০২৬ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যোগদানের পর সরকারি বিধি-বিধান ও আর্থিক নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তার ভাষ্য, কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমন ক্রয়েব ব্যাপারে বরাদ্দে ১০ শতাংশ ঠিকাদার পাবেন এছাড়া ভ্যাট ও রয়েছে। তবে সে সব ব্যায় আড়াল করে অুনয়ম হিবেরে এসব ব্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

১৫০ কেজি গোবর না ৪০ কেজি কম্পোস্ট?
অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল জৈব সার বিতরণ। কৃষি বিভাগের দাবি, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থমূল্যের সমপরিমাণ কৃষি উপকরণই বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে খোলা গোবর সার সহজলভ্য না থাকায় সমমূল্যের ৪০ কেজির এসিআই কোম্পানির জৈব সার (ট্রাইকো কম্পোস্ট) সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এটি আর্থিক মূল্যের দিক থেকে সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সরকারি নথিতে যদি নির্দিষ্টভাবে ১৫০ কেজি গোবরের কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে তা পরিবর্তনের অনুমোদন ছিল কিনা । তবে কুষি অফিস বলছে গোবর না পাওয়া যাওয়ায় সেই পরিমাণ অর্ধ ব্যায় করে অন্য সার দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি প্রণোদনা কমিটির রেজুল্যেশনে তা অনুমোদিত হয়েছে।

বাঁশের খুঁটি নিয়ে বিতর্ক
প্রতিবেদনে নিম্নমানের বাঁশ সরবরাহের অভিযোগ তোলা হলেও কৃষি বিভাগের দাবি, দরপত্র ও ক্রয় প্রক্রিয়া এককভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পন্ন করেননি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্রয় কমিটিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ একাধিক সদস্য ছিলেন। ফলে কোনো ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
কৃষি বিভাগের একটি অংশের দাবি, বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাত্র কয়েক দিনের জন্য দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন পূর্ববর্তী কর্মকর্তা মনির হোসেন। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, নতুন কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তিনি যোগদানের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং বিষয়টি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে কোনো উপকরণ পরিবর্তন করা হলে তার লিখিত অনুমোদন, কারিগরি যুক্তি এবং আর্থিক সমন্বয়ের নথি থাকতে হবে। আবার অনিয়মের অভিযোগও কেবল সংবাদ বা সামাজিক আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না। নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করতে পারে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া: সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সার্ভিস উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

“স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া” স্লোগান এবং “সম্মান, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও প্রো-অ্যাক্টিভনেস” প্রতিপাদ্যকে সামনেবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশবিস্তারিত পড়ুন

অগ্রগতির জাগরণ প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা ও কালীগঞ্জে যুবদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

সাতক্ষীরায় অগ্রগতি সংস্থার বাস্তবায়নাধীন ‘জাগরণ’ প্রকল্পের আওতায় যুবদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরার বেতনা নদীর তীরে দুই হাজার বৃক্ষরোপণ
  • সাতক্ষীরা পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে রাতের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
  • সাতক্ষীরায় প্রাইমারির নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়নপত্র তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক
  • তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের পদক্ষেপ জানাতে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
  • সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবের সাথে বাকশিস নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
  • সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ, সাতক্ষীরায় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রস্তুতি সভা
  • দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
  • চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়, সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রে যারা
  • সাতক্ষীরা জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতি (প্রস্তাবিত) কমিটি ঘোষণা, উপদেষ্টা রউফ, সভাপতি সান্টু, সম্পাদক রনজু
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক
  • সাতক্ষীরায় হিন্দু পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাগর