মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাতক্ষীরায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ কতটা সত্য?

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষি বিভাগের বৃক্ষরোপণ ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কৃষকদের কম পরিমাণ জৈব সার এবং নিম্নমানের বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সদ্য যোগদান করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র।

এঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং থেকে পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। পৃথকভাবে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান রফিকুল ইসলাম।

কী নিয়ে অভিযোগ?
গত ২৯ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মিলনায়তনে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় রোপা আমন ধানের বীজ ও সার, বিভিন্ন সবজির বীজ, নারিকেলের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

এর কয়েক দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সরকারি নির্দেশনায় প্রতিজন কৃষকের জন্য ১৫০ কেজি গোবর সার বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪০ কেজি সার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি খুঁটির সরকারি মূল্য ৫০ টাকা ধরা হলেও কৃষকদের নিম্নমানের বাঁশ সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার গ্রহণের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ ওঠে।

কী বলছে কৃষি বিভাগ?
অভিযোগের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।

তিনি জানান, তিনি ১৬ জুন ২০২৬ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যোগদানের পর সরকারি বিধি-বিধান ও আর্থিক নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তার ভাষ্য, কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমন ক্রয়েব ব্যাপারে বরাদ্দে ১০ শতাংশ ঠিকাদার পাবেন এছাড়া ভ্যাট ও রয়েছে। তবে সে সব ব্যায় আড়াল করে অুনয়ম হিবেরে এসব ব্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

১৫০ কেজি গোবর না ৪০ কেজি কম্পোস্ট?
অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল জৈব সার বিতরণ। কৃষি বিভাগের দাবি, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থমূল্যের সমপরিমাণ কৃষি উপকরণই বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে খোলা গোবর সার সহজলভ্য না থাকায় সমমূল্যের ৪০ কেজির এসিআই কোম্পানির জৈব সার (ট্রাইকো কম্পোস্ট) সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এটি আর্থিক মূল্যের দিক থেকে সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সরকারি নথিতে যদি নির্দিষ্টভাবে ১৫০ কেজি গোবরের কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে তা পরিবর্তনের অনুমোদন ছিল কিনা । তবে কুষি অফিস বলছে গোবর না পাওয়া যাওয়ায় সেই পরিমাণ অর্ধ ব্যায় করে অন্য সার দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি প্রণোদনা কমিটির রেজুল্যেশনে তা অনুমোদিত হয়েছে।

বাঁশের খুঁটি নিয়ে বিতর্ক
প্রতিবেদনে নিম্নমানের বাঁশ সরবরাহের অভিযোগ তোলা হলেও কৃষি বিভাগের দাবি, দরপত্র ও ক্রয় প্রক্রিয়া এককভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পন্ন করেননি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্রয় কমিটিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ একাধিক সদস্য ছিলেন। ফলে কোনো ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
কৃষি বিভাগের একটি অংশের দাবি, বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাত্র কয়েক দিনের জন্য দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন পূর্ববর্তী কর্মকর্তা মনির হোসেন। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, নতুন কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তিনি যোগদানের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং বিষয়টি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে কোনো উপকরণ পরিবর্তন করা হলে তার লিখিত অনুমোদন, কারিগরি যুক্তি এবং আর্থিক সমন্বয়ের নথি থাকতে হবে। আবার অনিয়মের অভিযোগও কেবল সংবাদ বা সামাজিক আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না। নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করতে পারে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

তালায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সঙ্গে তালা উপজেলাবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় যানজট নিরসনকল্পে সভা, একগুচ্ছ পদক্ষেপে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদ

সাতক্ষীরা জেলা শহরের যানজট নিরসনকল্পে গঠিত উপ-কমিটির প্রথম সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় বিআরডিবির র‍্যালি ও আলোচনা সভা

​‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্যবিস্তারিত পড়ুন

  • আশাশুনির দাড়ারখাল অবমুক্তের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
  • জমি-জায়গার বিরোধের জের ধরে জমি দখলের চেষ্ঠা, পুকুর ও মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযাগ
  • দৃষ্টিপাত সম্পাদক এর সুস্থতা কামনা সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের
  • সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চারা বিতরণ কর্মসূচি
  • সাতক্ষীরায় রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের কমিটি গঠন; সভাপতি কেডি, সম্পাদক মেহেদী
  • এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা
  • সাতক্ষীরায় রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের জন্মজয়ন্তী উদযাপন
  • দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের বিবৃতি
  • দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতি
  • খুলনা বিভাগীয় ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত হলো সাতক্ষীরা
  • গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল