পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫
২২ বছরের মধ্যে এইচএসসিতে সবচেয়ে কম পাসের হার


এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। মোটপাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জনশিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে প্রকাশিত ফলে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২২ বছরের এইচএসসির ফলাফল পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০০৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাসের হার এটিই সবচেয়ে কম। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, এরপর কোনো বছরই তা ৫২ শতাংশের নিচে নামেনি।
২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়, ২০০৬ সালে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৬৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এরপর ২০১২ সালে ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে, আর ২০১৮ সালে নেমে আসে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশে।
করোনাকালে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২০ সালে পরীক্ষা হয়নি, তাই ওই বছরের ১০০ শতাংশ পাস দেখানো হয়।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এরমধ্যেঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১.৮০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন, দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩, ময়মনসিংহে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০.৯০ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪, চট্টগ্রামে পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০, কারিগরিতে পাসের হার ৪৯.৪৩ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৮৮৬, রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫.০৬ শতাংশ; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।চলতি বছর গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ।
এ দিনসকালে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এর আগে সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে গ্রহণ করা হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পাসের হার ৫১.১২ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থাকা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থীর আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সাথে সাথেই ফলাফল স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের Result sheet download করা যাবে এবং SMS-এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরাও তাদের ফলাফল জানতে পারবেন।
বোর্ডসমূহ কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য ওই ওয়েবসাইটের Result কর্ণারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN-এর মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ডসমূহের কমন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এছাড়াও, পরীক্ষার্থীরা যে কোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ এসএমএস প্রেরণের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে HSC < Space> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর < Space> রোল নম্বর < Space> পরীক্ষার বছর লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণঃ HSC Dha 123456 2026 লিখে 16140 নম্বরে Send করতে হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি থেকে আরও বলা হয়, শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান একীভূত করার ভাবনা, শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুনবিস্তারিত পড়ুন

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ একবিস্তারিত পড়ুন

তাহসিফ হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধবিস্তারিত পড়ুন


