দেবহাটায় বাড়ছে পানিফলের চাষ: কর্মসংস্থান ও লাভের নতুন দিগন্ত


অধিক ফলন, কম খরচ এবং কর্মসংস্থানের দারুণ এক বিকল্প হিসেবে সাতক্ষীরার কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ‘পানিফল’ চাষ। জেলার দেবহাটা উপজেলাসহ বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন সবুজ পাতার সমারোহে দৃশ্যমান হচ্ছে পানিফলের ক্ষেত। সুস্বাদু এ ফলটি সম্পর্কে অনেকের পূর্ণ ধারণা না থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় ও বাহ্যিক বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের দুপাশে, স্থানীয় হাটবাজারের ফুটপাতে কিংবা সরাসরি ক্ষেত থেকে তুলে মহাসড়কের ধারে পসরা সাজিয়ে পানিফল বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। ফলটির স্থানীয় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ও জনপ্রিয় মৌসুমি ফসলে পরিণত হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমভিত্তিক এই ফলের ব্যাপক চাষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর, গাজিরহাট, কামটা, কোঁড়া, দেবহাটা সদর, পারুলিয়া, কুলিয়া ও বহেরা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব এলাকার উৎপাদিত ফল সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
কৃষকদের মতে, পানিফল চাষের জন্য মূলত ডোবা, খানা কিংবা মৎস্য ঘেরের মতো স্থান অত্যন্ত উপযোগী। সামান্য লবণাক্ত ও মিষ্টি—উভয় প্রকার পানিতেই এটি ভালো জন্মে। পানিফল গাছ কচুরিপানার মতো পানির ওপর ভেসে থাকে এবং পাতার গোড়া থেকে শিকড়ের মতো ডগা বের হয়ে বংশ বিস্তার করে, যেখান থেকে পরবর্তীতে ফল ধরে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পানিফল চাষে অতিরিক্ত কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং এতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও নামমাত্র লাগে।
মৌসুমি এই ব্যবসা বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। সখিপুর ও ডেল্টা মোড় এলাকার খুচরা পানিফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি পানিফল ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ফল বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালোভাবেই সংসার চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে অর্ধশতাধিক চাষীর মাঝে অগ্রিম অর্থ বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ফলন আসার পর বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদিত ফসল সংগ্রহ করেন। এভাবেই প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত থেকে অনেকেই সচ্ছলতা অর্জন করছেন।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত ওসমান জানান, পানিফল চাষকে প্রথাগতভাবে প্রধান কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ধরা না হলেও, এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি দ্রুত প্রধান চাষের খাতের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে এর আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর থেকে সরাসরি কোনো আর্থিক বরাদ্দ না থাকলেও চাষিদের সার্বিক সফলতা ও উন্নয়নে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

উপকূলের নতুন দিগন্ত: সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরা যেন প্রকৃতি ও প্রতিকূলতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।বিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা পৌরসভারবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন
জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারবিস্তারিত পড়ুন


