ইরানের মাশহাদে হবে খামেনির দাফন, শোকসভায় অংশ নেবে লক্ষাধিক মানুষ


ইরানের নিহত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দেশের অন্যতম পবিত্র শহর মাশহাদে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খামেনির মৃত্যু ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। সেমি-অফিশিয়াল ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, খামেনিকে দাফন করা হবে মাশহাদে, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তার পিতা সমাহিত আছেন। শহরটি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং শিয়া ইসলামের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র, যেখানে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার। এটি প্রতি বছর লক্ষাধিক তীর্থযাত্রীকে আকর্ষণ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৬ বছর বয়সে খামেনি গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার সময় নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ স্যোসালে ঘোষণা করেন এবং পরে ইরানি সরকারও নিশ্চিত করে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দাফনের আগে তেহরানে বড় শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে, তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
খামেনি ৩৬ বছর ধরে ইরান নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মৃত্যুর ফলে দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির অনুপস্থিতিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ শক্তি ভারসাম্য বদলাতে পারে, যা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতেও এটি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে দিকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হয়েছেন মোজতবা খামেনি। তিনি খামেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র। যদিও তিনি কখনও সরকারি পদে ছিলেন না, তবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে তার শক্তিশালী উপস্থিতি তাকে দেশটির ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করেছে। মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সম্প্রতি কয়েকদিনের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে এবং এতে প্রায় ৭০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই হামলা বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা পর্যটন ও বাণিজ্যকে ব্যাহত করছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা এখনো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি। তবে যদি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপেও অংশ নিতে পারে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান জরুরি বৈঠকে বসে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

আমি ও আমার স্ত্রী মালয়েশিয়ার আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রায়বিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমেরবিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে তার বিস্তৃত ওবিস্তারিত পড়ুন


