উপকূলের নতুন দিগন্ত: সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরা যেন প্রকৃতি ও প্রতিকূলতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। একপাশে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের নীরব বিস্তার, অন্যপাশে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত জনপদ। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, লোনা পানির তীব্রতা আর বেড়িবাঁধ ভাঙার আতঙ্কের মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষ হার মানেনি। সাতক্ষীরার রূপালী ‘সাদা সোনা’ চিংড়ি, সুস্বাদু জিআই আম আর কৃষকদের ঘামে ভেজা ফলন দেশের অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে।
প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর সম্ভাবনায় ভরপুর এই জনপদে ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর উদ্যোগ কেবল উচ্চশিক্ষার একটি নতুন ঠিকানা তৈরি নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও জীবনের বৈজ্ঞানিক রূপান্তরের এক বড় সুযোগ।
একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গবেষণাগারে নিয়ে আসা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগতভাবে চলে আসা কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।
আমাদের সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিশ্বমানের গবেষণা দরকার। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই যুগে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার এক বাস্তবমুখী ল্যাবরেটরি।
কৃষিতে লোনা পানির অনুপ্রবেশ এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হাত ধরে যদি লবণাক্ততা-সহনশীল নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা যায়, তবে তা কেবল সাতক্ষীরা নয়, পুরো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের খাদ্য নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববাজারে আমাদের চিংড়ি ও আমের বিশাল চাহিদা থাকলেও প্রথাগত চাষাবাদ ও উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। ব্লু-ইকোনমি, মৎস্য বিজ্ঞান ও ফুড টেকনোলজির আধুনিক গবেষণা যুক্ত হলে এ দুটি সম্ভাবনাময় খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় পণ্যের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়বে।
উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় যুবসমাজকে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করবে। তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে এলাকার অর্থনীতি পাবে নতুন গতি।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল কয়েকটি ভবনের সমষ্টি নয়; এটি অবহেলিত উপকূলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, টিকে থাকার লড়াই এবং এক টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরবে—এটাই এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রত্যাশা।
লেখক : তারিক ইসলাম।
সভাপতি,সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

দেবহাটায় বাড়ছে পানিফলের চাষ: কর্মসংস্থান ও লাভের নতুন দিগন্ত
অধিক ফলন, কম খরচ এবং কর্মসংস্থানের দারুণ এক বিকল্প হিসেবে সাতক্ষীরার কৃষকদেরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা পৌরসভারবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন
জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারবিস্তারিত পড়ুন


