বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

বিরল শাক–লতার ব্যতিক্রমী মেলায় উপকূলের তারকাদের মিলনমেলা

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন: উপকূলের লোনা জল, ঘূর্ণিঝড় আর পরিবেশঝুঁকিতে হারিয়ে যেতে বসেছে বহু দেশজ শাক–লতা ও ভেষজ উদ্ভিদ। সেই হারানো সবুজ ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী শাক–লতা ও ভেষজ মেলা। বারসিকের আয়োজনে চন্ডিপুর দুর্গামন্দির মাঠে অনুষ্ঠিত এ মেলায় এক মঞ্চে স্থান পেয়েছে ১৩১ প্রজাতির বিরল, বিলুপ্তপ্রায় ও অচাষকৃত শাক–লতা–পাতা যা উপকূলের মানুষের ঐতিহ্য, চিকিৎসাজ্ঞান ও খাদ্যসংস্কৃতির এক মূল্যবান দলিল হয়ে উঠেছে।

সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমতে থাকে। বৃদ্ধ, নারী, শিশু, কিশোর সব বয়সী মানুষ ছুটে আসে এই অনন্য আয়োজন দেখতে। কারও হাতে খাতা–কলম, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার প্রতিটি শাকের নাম, ব্যবহার ও ঔষধিগুণ জানতে আগ্রহী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্টল থেকে স্টলে। লোনা মাটির এই উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব শাক–লতা আর আগের মতো দেখা যায় না, সেসবের এত বিস্তৃত সংগ্রহ দেখে দর্শনার্থী ও গবেষকরাও বিস্মিত।

১৩১ প্রজাতির শাক–লতা দর্শনার্থীদের বিস্ময়ে অভিভূত করেছে। মেলায় প্রদর্শিত শাক–লতার মধ্যে ছিল:হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি, নিম পাতা, উলো গাছ, কেশে, ষষ্ঠী বট, খুত কৃমি, কাল কচু, ব্রাহ্মী শাক, সাদা অপরাজিতা, পিপুল শাক, থানকুনি, অর্জুন ছাল, তেলা কচু, হেলানচো, সবুজ শাপলা, সাদা শাপলা, ঢেপ, ঘেটকুল, জার্মানি লতা, ওড়ল পাতা, আলু পাতা, শান্তি শাক, পাথর কুচি, বন টমেটো, গিমে শাক, শিউলি পাতা, বন মুলা, হাতিসূর, ঘুম শাক, হেন্না গাছ, ননিয়া শাক, বিলম্ব, জবা ফুল পাতা, কুলে খাড়া, দূবা, কেশরাজ, মাধবী লতা, নোনা শাক, ভুই ওগড়া, পেপুল শাক, খুত কেউড়ে, কলমি শাক, ডুমুর, বৌনুটি, আকন্দ, নীলকণ্ঠ, তুলসি, সাদা তুলসি, আদা বরন, স্বর্ণলতা, বাসক পাতা, হাতিশুর, কালো কচু শাক, কসম গাছ, উলটকম্বল, কানসিরা, রাঙা কুচ, সেতা শাক, সিশ আকন্দ, সজিনা পাতা, কাটানোটে শাক, নোনা গড়গড়ে, অড়ল পাতা, আমরুল শাক, ঘোড়া শান্তি শাক, পেপরুল শাক, রাখাল চটকে, চির বসন্ত, কুলফি শাক, বামনহাটি, ধৃতকুমারী, রক্ত কেউটে, অর্জুন গাছ, বন ঢেঁড়স, বন তুলসি, মিশরি পাতা, কলাবতী, মোচা, কলার থোড়, শান্তি শাক, উলু গাছ, হেকড়া, শিয়ালকাঁটা, তিন বেগুন, মেরি সূর্যমুখী, ঈশানমূল, সাদা বদি, মান কচু, ধুতরা পাতা, কেয়া পাতা, নীল অপরাজিতা, মাটি ফোড়া শাক, মান্দার গাছ, বনপাটরি, অ্যালোভেরা, শষ্টি বট, বেতো শাক, শালুক, বউ নুটি, গিমের শাক, দূর্বা, আর ছোট গাছ, মনসা সেজি, দুধে শাক, নাগমণি, কালমেঘ পাতা, পাথরকুচি ও বাকোস পাতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

এত বিস্তৃত সংগ্রহ এক জায়গায় দেখে মেলার দর্শনার্থীরা বলেন, “এগুলো আমাদের শৈশবের খাবার ছিল, এখন আর অনেকটাই নেই। আজ আবার দেখলাম মনে হলো পুরনো দিনে ফিরে গেলাম।”

অনেকে জানান, এগুলোর পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এমন মেলা নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহীদের মতে, মেলা এক নতুন পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি বলেন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন ও বারবার ঘূর্ণিঝড়ে বহু দেশজ উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে। এমন আয়োজন মানুষকে সংরক্ষণে উৎসাহিত করে এবং পরিবেশ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অংশগ্রহণকারীরাও জানান, পূর্বপুরুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহু উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তপ্রায়। তাই এগুলোকে চাষাবাদে ফিরিয়ে আনা জরুরী। ১২টি স্টলের প্রতিযোগিতায় ১১৫ প্রজাতি প্রদর্শন করে প্রথম লতিকা রানী। মেলায় স্থানীয় নারীদের নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনীতে ১১৫ প্রকার শাক প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন লতিকা রানী, দ্বিতীয় হন শম্পা রানী, তৃতীয় স্থান অর্জন করেন কল্পনা রানী।

অন্যান্যদের মধ্যেও তুমুল প্রতিযোগিতা ছিল। ইতি গাইন দেখান ১০৯ প্রজাতি, নুপুর রানী ১০২, যমুনা গাইন ৯৫, মালতি রানী ৯৩, তৃষ্ণা– কনিকা জুটি ৯০, শিখা রানী ৮০, জোসনা বালা ৫৫ এবং সুন্দরী রানী দেখান ১০০ প্রজাতি। দেশজ জ্ঞান সংরক্ষণে বারসিকের এই মেলা বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান আয়োজকরা।

বারসিকের জানান, এই মেলা শুধু প্রদর্শনী নয় স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা। তরুণ প্রজন্মকে দেশজ উদ্ভিদের প্রতি আগ্রহী করা। এসব লক্ষ্য পূরণেই এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। চন্ডিপুরের এই সবুজ আয়োজন শুধু স্মৃতি নয় উপকূলের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীদের ভাষায় “এ মেলা যতদিন থাকবে, উপকূলের স্থানীয় উদ্ভিদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।”

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী, কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সহনশীলতা নিয়ে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের সমাপনী ও অভিজ্ঞতাবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবসায় উন্নয়ন ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি জীবন বীমা কর্পোরেশনের উদ্যোগে সাতক্ষীরায় “ব্যবসায় উন্নয়ন ও পর্যালোচনা সভা-২০২৬” অনুষ্ঠিতবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরার লাবসা স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখলেন ডিসি

শ্রেণিকক্ষে তখন চলছিল পাঠদান। শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল শিক্ষকের কথা। এরই মধ্যেবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরা পৌরসভায় কমিউনিটি সংলাপ : সমন্বিত পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের গল্প
  • তালায় নায়েবকে ‘ম্যানেজ’ করে রাস্তার পাশের ২৫ মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ
  • সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষ্যে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত
  • এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে
  • গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: মামা ওবায়দুর কারাগারে
  • ৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি
  • বিআরটিএ উদ্যোগে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
  • সাতক্ষীরায় সমতা, পিতৃতন্ত্র ও জেন্ডার ট্রান্সফর্মেটিভ অ্যাপ্রোচ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
  • মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন, তিন দিনেও মামলা হয়নি
  • সাতক্ষীরায় যুবদলের কমিটি ঘোষণা দেওয়ায় পৌর ও সদর উপজেলা যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল
  • দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার সময় বাসায় খাচ্ছিলেন এমপি গাজী নজরুল
  • সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক পালন