সাতক্ষীরা পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে রাতের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা


সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে ঘিরে পৌরদীঘিতে চলছে রাতের নৌভ্রমণ। জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের জন্য নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিটি নৌকায় চার থেকে ছয়জন বসার ব্যবস্থা থাকলেও নেই লাইফ জ্যাকেট। নৌকা পরিচালনাকারী ইজারাদারও স্বীকার করেছেন, তাঁদের কাছে লাইফ জ্যাকেট নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রাতের অন্ধকারে দীঘির পানিতে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় প্রস্তুতি কতটা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরদীঘিতে নৌভ্রমণের জন্য রয়েছে মোট নয়টি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় চার থেকে ছয়জন বসতে পারেন। জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে ১০ মিনিট নৌভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। মেলার আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকে এই ভ্রমণে অংশ নিচ্ছেন।
কিন্তু আনন্দের এই আয়োজনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। নৌকায় যাত্রীদের জন্য নেই জীবনরক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট। নৌকা ইজারাদার মজিবুর রহমান জানান, লাইফ জ্যাকেট নেই, তবে দড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের লোকজন নৌকায় থাকেন এবং তাঁরা নজরদারি করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, দড়ি আর নজরদারি দিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের জীবন কতটা নিরাপদ রাখা সম্ভব? রাতে কোনো নৌকা উল্টে গেলে কিংবা একাধিক যাত্রী পানিতে পড়ে গেলে তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লোকবল রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
নয়টি নৌকা চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিটি নৌকায় চার থেকে ছয়জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, নারী ও সাঁতার না জানা যাত্রীদের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেটের অনুপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১০ মিনিটের বিনোদনের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি কেন—এ প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা করা হলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের অংশ।
এ অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ, মেলা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নৌকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই, ধারণক্ষমতা মেনে যাত্রী পরিবহন, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত এবং রাতের নৌচলাচলে নিয়মিত তদারকির দাবি উঠেছে।
গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যের অংশ। মেলায় বিনোদনের আয়োজন থাকবে, মানুষ আনন্দ করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিরাপত্তার ঘাটতি রেখে সেই আনন্দ আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর দায় নির্ধারণের চেয়ে দুর্ঘটনা ঠেকানোই জরুরি। ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের নৌভ্রমণ যেন কারও জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে না ওঠে—এখনই প্রয়োজন কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় প্রাইমারির নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়নপত্র তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক
সাতক্ষীরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ১৯০ জন সহকারী শিক্ষকের হাতে পদায়নপত্র তুলেবিস্তারিত পড়ুন

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের পদক্ষেপ জানাতে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে তেল, গ্যাস ওবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবের সাথে বাকশিস নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব এর সাথেবিস্তারিত পড়ুন


