ভোমরা স্থলবন্দরের গার্ড সুপারভাইজার কালামের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ


সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউজ পার্কিং ইয়ার্ডে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে অবৈধ অর্থ আদায়, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানান প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পার্কিং ইয়ার্ডে প্রবেশের সময় আগে বাংলাদেশি প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫০ টাকা এবং ভারতীয় ট্রাক বের হওয়ার সময় ৫০ রুপি করে আদায় করতেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদের নির্দেশেই এসব টাকা আদায় করা হতো।
পরে বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর তার নির্দেশে প্রকাশ্যভাবে টাকা আদায় বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মাত্র দুই-তিন দিনের মাথায় কৌশল পরিবর্তন করে পার্কিং ইয়ার্ডের ভেতরে গিয়ে গোপনে আবারও টাকা আদায় শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে গাড়ির ধরন ও অবস্থাভেদে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে কয়েকজন জানিয়েছেন।
আগে গেট থেকেই টাকা নেওয়া হতো। অভিযোগের পর সেই পদ্ধতি বন্ধ হলেও এখন পার্কিং ইয়ার্ডের ভেতরে গিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী গাড়ি পার্কিং ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। এসব গাড়ির কাছ থেকে কথিতভাবে আদায় করা টাকার কোনো দৃশ্যমান রসিদ দেওয়া হয় না। দিন শেষে গার্ডদের কেউ কেউ টাকা পেলেও আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ কার কাছে থাকে- তা নিয়ে তাদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। আর এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে আবুল কালাম আজাদের পাশাপাশি আলফাজ ও মনিরুল নামে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে- প্রতিদিন কত গাড়ি থেকে কত টাকা আদায় হচ্ছে এবং সেই অর্থের হিসাব কোথায়? এটি যদি বন্দরের অনুমোদিত কোনো ফি হয়, তাহলে তার সরকারি রসিদ ও নির্ধারিত হার কোথায়? আর যদি এটি অনুমোদিত ফি না হয়, তাহলে কার নির্দেশে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে?
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসার পরে আমি টাকা উঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। এখন দু-একজন আবার বলাবলি করছে আবুল কালাম আবারও টাকা উঠাচ্ছে।
এছাড়া পার্কিং ইয়ার্ডের কথিত টাকা আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ৪০ জন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ-বাণিজ্যের।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের সময় প্রত্যেক গার্ডের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ থেকে নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন- নিয়োগপ্রাপ্ত গার্ডদের কাছ থেকে যদি কোনো অর্থ নেওয়া না হয়ে থাকে, তাহলে আবুল কালাম আজাদ বা তার পক্ষ থেকে নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? আর এই অর্থের উৎসই বা কী?
নিরাপত্তাকর্মীদের কয়েকজনের অভিযোগ, নিয়োগের সময় টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের এসব কর্মী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গার্ড সাংবাদিককে তাদের কাছে থাকা তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। চাকরি বাঁচাতে অনেকে মুখ বন্ধ রাখলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এভাবে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে কিছু কিছু গার্ড হয়তো ১০/২০ টকা নিতে পারে নাস্তা খরচ করার জন্য।
ভোমরা স্থলবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থাপনায় অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আইনজীবী ফোরামের আলোচনা সভা
সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটেরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব, গল্প, কবিতা আবৃত্তি ও স্মৃতির এক সাহিত্যসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব, গল্প, কবিতা আবৃত্তি ও স্মৃতির এক সাহিত্যসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

অল্প বয়সীদের হাতে স্মার্টফোন মানেই কবর রচনা : সাতক্ষীরার ডিসি
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ কাউসার আজিজ বলেছেন, ‘আপনারা আপনার অল্প বয়সীবিস্তারিত পড়ুন


